মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার কটকবাজার এলাকায় র্যাব-১১ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানটি ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় একটি পুকুরে চালানো হয়। পুকুরটি সীমান্ত থেকে মাত্র সাড়ে ৩০০ মিটার দূরে এবং কবরস্থান সংলগ্ন। র্যাবের তৎপরতায় পুকুরের পানির নিচে লুকানো একাধিক অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
র্যাব-১১ কুমিল্লা কম্পানি কমান্ডার মেজর সাদমান ইবনে আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযান চলাকালীন পুকুরে শ্যালো মেশিন ব্যবহার করে সেচ কার্যক্রম চালানো হয়। এ সময় পুকুর থেকে বহু পিস্তল, বন্দুক এবং ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, অস্ত্রগুলো সাদা বস্তা ও স্কচটেপে মোড়ানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র রয়েছে, যা স্থানীয় ও সীমান্ত এলাকার সন্ত্রাস দমনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মেজর সাদমান আরও জানান, পুকুরে আরও অস্ত্র লুকানো থাকতে পারে। তাই র্যাব অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন এবং তদন্ত চলছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো পরে নিরাপদে র্যাবের হেফাজতে রাখা হবে। তিনি বলেন, “পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত তথ্য ও অস্ত্রের ধরন সম্পর্কে জানানো হবে। এ অভিযান কুমিল্লার সীমান্ত নিরাপত্তা এবং স্থানীয় জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ।”
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুকুরটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত ছিল এবং সীমান্ত থেকে আসা সামরিক বা অন্য ধরনের কার্যক্রমের জন্য গোপন অস্ত্র রাখা হতো বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, র্যাবের অভিযান যথাসময়ে হওয়ায় বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়ানো গেছে।
এই অভিযান কুমিল্লা অঞ্চলের সীমান্ত নিরাপত্তা ও সন্ত্রাস দমন কার্যক্রমে র্যাবের সক্রিয় ভূমিকার প্রমাণ। এটি স্থানীয় প্রশাসন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সমন্বিত তৎপরতার ফলাফল। র্যাবের অভিযান চলাকালীন স্থানীয় জনগণকে নিরাপদ দূরত্বে রাখা হয়েছে এবং কোনো ধরনের আঘাত বা দুর্ঘটনা এড়ানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মোটের ওপর, কটকবাজারের পুকুরে অভিযান চলাকালীন উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সন্ত্রাস দমন কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। র্যাব ও স্থানীয় প্রশাসনের এই ধরনের কার্যক্রম সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে এবং সাধারণ মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে অব্যাহত থাকবে।
কসমিক ডেস্ক