দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টির মধ্যে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনার কারণে দেশের ১৯ অঞ্চলের নদীবন্দরে এক নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার পাশাপাশি কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
সোমবার (১৩ জুলাই) প্রকাশিত আবহাওয়ার বিশেষ পূর্বাভাসে সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা জানান, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে এসব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে এক নম্বর সতর্কসংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে নৌযান চলাচলে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা যায়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় রয়েছে। এর প্রভাবে সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। অনেক স্থানে মাঝারি থেকে ভারী এবং কোথাও কোথাও অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
টানা বৃষ্টির কারণে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেক এলাকায় যানজট ও ধীরগতির কারণে অফিসগামী মানুষ এবং শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম বিভাগসহ দেশের কয়েকটি জেলায় ভারী বর্ষণ ও বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় অন্তত ১০ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি বন্যা ও পাহাড়ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে পৌঁছেছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মৃতদের মধ্যে রাঙামাটিতে ৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, কক্সবাজারে ২৮ জন, চট্টগ্রামে ১৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জন রয়েছেন। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে প্রয়োজন ছাড়া নৌপথে চলাচল না করা এবং স্থানীয় প্রশাসন ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক