কুড়িগ্রামের ধরলা নদীতে সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে চীনা প্রতিনিধিদল The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

কুড়িগ্রামের ধরলা নদীতে সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে চীনা প্রতিনিধিদল

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 23, 2026 ইং
কুড়িগ্রামের ধরলা নদীতে সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে চীনা প্রতিনিধিদল ছবির ক্যাপশন: কুড়িগ্রামের সদর উপজেলার ধরলা নদীর ওপর প্রস্তাবিত সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে স্থান পরিদর্শন করেছে চীনের রোড ব্রিজ করপোরেশনের প্রতিনিধিদল।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ধরলা নদীর ওপর প্রস্তাবিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে স্থান পরিদর্শন করেছে চীনের রোড ব্রিজ করপোরেশনের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। শনিবার (২৩ মে) দুপুরে তারা সদর উপজেলার শিবরাম বাংটুর ঘাট এলাকায় গিয়ে সেতুর সম্ভাব্য স্থান ও সংশ্লিষ্ট কারিগরি বিষয়গুলো পর্যালোচনা করেন।

চীনের রোড ব্রিজ করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী জাইয়া সাইয়ের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন বিজনেস ম্যানেজার ইউ জিগিং, মার্কেটিং ম্যানেজার ওয়াং জিংওয়েই, ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ার পেং টাও এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার শান তোনো। তারা নদীর অবস্থান, ভৌগোলিক কাঠামো এবং সম্ভাব্য নির্মাণ চ্যালেঞ্জগুলো সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শনকালে স্থানীয় ও সরকারি পর্যায়ের একাধিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন সেতু বাস্তবায়ন ও ভবন ব্যবস্থাপনা ইউনিটের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. এবাদত আলী, কুড়িগ্রাম এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম। এছাড়া জেলা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা এবং যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান হাসিবসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

প্রস্তাবিত সেতুটি এলজিইডির উদ্যোগে প্রায় ১,৭৫০ মিটার দীর্ঘ করে নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ধরলা নদীর ওপর এই সেতু নির্মিত হলে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী এবং ভূরুঙ্গামারী উপজেলার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলগুলো নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন থাকায় যাতায়াতে নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় জনগণকে।

স্থানীয়দের মতে, এই সেতু নির্মিত হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই নয়, বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে সোনাহাট স্থলবন্দরকেন্দ্রিক পণ্য পরিবহন আরও সহজ ও দ্রুত হবে, যা আঞ্চলিক বাণিজ্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল ধরলা নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা, যাতে তিন উপজেলার প্রায় আট লাখ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত সহজ হয়। বর্তমানে নদী পারাপারে নৌকা বা দীর্ঘ পথ ঘুরে চলাচল করতে হয়, যা সময় ও ব্যয়ের দিক থেকে অনেক কষ্টসাধ্য।

সেতু বাস্তবায়ন ও ভবন ব্যবস্থাপনা ইউনিটের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. এবাদত আলী জানিয়েছেন, এই পরিদর্শন প্রাথমিক পর্যায়ের অংশ। ঈদের পর একটি বিশেষ স্টাডি টিম এসে বিস্তারিত সম্ভাব্যতা যাচাই ও কারিগরি সমীক্ষা করবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ অবকাঠামোতে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে এটি স্থানীয় উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জীবনমান উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

বর্তমানে প্রকল্পটি প্রাথমিক যাচাই পর্যায়ে থাকলেও স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হবে এবং দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
ভোটের মাঠ ছাড়বে কি এনসিপি—রাজনীতিতে বাড়ছে আলোচনা

ভোটের মাঠ ছাড়বে কি এনসিপি—রাজনীতিতে বাড়ছে আলোচনা