ঢাকার আশুলিয়ায় একটি পশুর হাটে গরু বাঁধাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় শহীদুল্লাহ কায়সার (৫০) নামে এক গরু ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং কোরবানির পশুর হাটে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) রাতে আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের পাড়াগ্রাম পশুর হাটে এই ঘটনা ঘটে। নিহত শহীদুল্লাহ কায়সার ধামরাই উপজেলার বাইশাকান্দা ইউনিয়নের মঙ্গলবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি স্থানীয়ভাবে ওষুধ ব্যবসার পাশাপাশি কোরবানির সময় গরু কেনাবেচার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
নিহতের স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কোরবানির পশু বিক্রির উদ্দেশ্যে শহীদুল্লাহ কায়সার তার ভাই ও ভাগ্নেকে সঙ্গে নিয়ে মোট ১৮টি গরু নিয়ে হাটে আসেন। রাত পর্যন্ত তারা ১৪টি গরু বিক্রি করতে সক্ষম হন। বাকি চারটি গরু নিয়ে তারা হাটেই অবস্থান করছিলেন এবং পরবর্তী ক্রেতার অপেক্ষায় ছিলেন।
এ সময় হঠাৎ কয়েকজন ব্যক্তি এসে তাদের নির্ধারিত স্থানে গরু বাঁধতে চাইলে শহীদুল্লাহর ভাগ্নে ফিরোজ কবির এতে আপত্তি জানান। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয়, যা দ্রুত উত্তেজনায় রূপ নেয়। পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং এক পর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উভয় পক্ষ।
স্বজনদের অভিযোগ, হাট কর্তৃপক্ষের লোকজন এবং তাদের সহযোগীরা মিলে প্রথমে ফিরোজ কবিরের ওপর হামলা চালায়। পরে তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে শহীদুল্লাহ কায়সারকেও বেধড়ক মারধর করা হয়। মারধরের সময় তাকে গুরুতরভাবে আহত করা হয়, যা পরে তার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এছাড়া, হামলার সময় গরু বিক্রির প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন নিহতের স্বজনরা। তারা দাবি করেন, এটি শুধুমাত্র একটি সংঘর্ষ নয়, বরং পরিকল্পিত হামলা এবং লুটপাটের ঘটনা।
গুরুতর আহত অবস্থায় শহীদুল্লাহ কায়সারকে দ্রুত উদ্ধার করে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার বিষয়ে ধামরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কাজী রেজাউল ইসলাম জানান, পশুর হাটে মারধরের ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে ঘটনাস্থল আশুলিয়া থানার আওতাধীন হওয়ায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা আশুলিয়া থানা থেকেই নেওয়া হবে।
এদিকে, আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে পশুর হাট বসছে, যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না হলে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশুর হাটে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। নির্ধারিত স্থান, লেনদেনের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের সহিংসতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
বর্তমানে নিহতের পরিবার বিচার দাবি করেছে এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
কসমিক ডেস্ক