চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে ইরানে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। শনিবার (১০ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করে জানায়, দেশের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো সীমা অতিক্রম করা হলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।
গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে রিয়ালের ব্যাপক দরপতন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব বিক্ষোভ দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এমন অবস্থার মধ্যেই আইআরজিসির এই সতর্কবার্তা এলো। তবে ‘রেড লাইন’ বলতে ঠিক কোন কার্যক্রম বা সীমার কথা বোঝানো হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করে, গত দুই রাতে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় কয়েকজন সাধারণ নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়। বাহিনীটি বলছে, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের অর্জন রক্ষা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা বজায় রাখা তাদের জন্য একটি ‘লাল রেখা’, যা কোনোভাবেই লঙ্ঘন করতে দেওয়া হবে না।
একই সঙ্গে ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, জনসম্পদ ও কৌশলগত স্থাপনা সুরক্ষায় তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতি চলতে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয় এবং এজন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিক্ষোভের মধ্যেই দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। পশ্চিম ইরানে টেলিফোনে যোগাযোগ করা এক প্রত্যক্ষদর্শী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, তার এলাকার আশপাশে আইআরজিসির ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুলি চালানোর ঘটনাও ঘটছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াও জোরালো হচ্ছে। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্বের প্রতি নতুন করে সতর্কবার্তা দেন। পরদিন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ‘সাহসী জনগণের পাশে’ রয়েছে।
ইরান সরকার অবশ্য এই বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করছে। অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে প্রাণহানির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানজুড়ে চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, নিহতদের মধ্যে অন্তত ৪৮ জন বিক্ষোভকারী এবং ১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।
কসমিক ডেস্ক