চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে জাহাজের গড় টার্ন অ্যারাউন্ড সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সংসদ অধিবেশনে তিনি জানান, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে এই সময় ছিল ২ দশমিক ৫৮ দিন, যা চলতি অর্থবছরে কমে ২ দশমিক ১০ দিনে নেমে এসেছে।
বুধবার জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, যার ফলে ধাপে ধাপে কার্যক্রম আরও দ্রুত হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে নির্মাণাধীন বে-টার্মিনাল ২০৩০ সালের মধ্যে চালু হতে পারে। এটি চালু হলে বড় জাহাজ সরাসরি বন্দরে প্রবেশ করতে পারবে এবং বর্তমান অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা অনেকটাই দূর হবে।
তিনি আরও বলেন, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল ইতোমধ্যে চালু হওয়ায় বন্দরে জাহাজের অপেক্ষমাণ সময় প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নেমে এসেছে। ২০২৪ সালের জুন থেকে এই টার্মিনালের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর বন্দরের কার্যক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
মন্ত্রী সংসদে ব্যাখ্যা করেন, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর যেমন কলম্বো ও সিঙ্গাপুরের তুলনায় চট্টগ্রাম বন্দরের টার্ন অ্যারাউন্ড সময় বেশি হওয়ার মূল কারণ কাঠামোগত পার্থক্য। ওই দুটি বন্দর মূলত ট্রান্সশিপমেন্ট হাব, যেখানে বড় জাহাজ থেকে কনটেইনার নামিয়ে অন্য জাহাজে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে কাস্টমস পরীক্ষা বা ক্লিয়ারেন্সের দীর্ঘ প্রক্রিয়া নেই।
অন্যদিকে, বাংলাদেশে চট্টগ্রাম বন্দর একটি ফিডার বন্দর হিসেবে কাজ করে। এখানে আসা ও যাওয়া সব কনটেইনারই দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ফলে প্রতিটি কনটেইনারে কাস্টমস পরীক্ষা, ক্লিয়ারেন্সসহ নানা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এতে তুলনামূলকভাবে সময় বেশি লাগে।
মন্ত্রী আরও জানান, বন্দর কর্তৃপক্ষ আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মাধ্যমে দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ফলে জাহাজের টার্ন অ্যারাউন্ড সময় ধীরে ধীরে কমছে এবং ভবিষ্যতে এটি আরও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বে-টার্মিনাল চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বহুগুণে বাড়বে। পাশাপাশি জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভরতা কমে যাবে এবং বড় জাহাজ সহজে বন্দরে প্রবেশ করতে পারবে। এতে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে গতি আসবে এবং লজিস্টিক খরচও কমবে।
সব মিলিয়ে, সংসদে দেওয়া এই তথ্য অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বন্দরের দক্ষতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক