উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড এলাকায় সৃষ্ট মৌসুমি স্থল নিম্নচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে জেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) সকাল থেকেই নগরের বিভিন্ন এলাকায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে সতর্কবার্তা প্রচার করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে মাঠপর্যায়ে একাধিক টিম কাজ করছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বিশেষভাবে যেসব এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে আকবরশাহ ঝিল ১, ২ ও ৩ নম্বর এলাকা, বিজয়নগর পাহাড়, শান্তিনগর পাহাড়, বেলতলীঘোনা পাহাড়, টাংকির পাহাড়, আমিন জুট মিল এলাকা, পাহাড়িকা, সমবায় আবাসিক এলাকা, মিয়ার পাহাড়, মুরাদপুর রেলস্টেশন-সংলগ্ন রেলওয়ের পাহাড়, মতিঝর্ণা, লালখান বাজারের পোড়া কলোনি, ঢেবারপাড়, আমবাগান এবং উত্তর হালিশহর উপকূলসংলগ্ন এলাকা। এসব স্থানে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রে মাছ ধরতে না যাওয়ার জন্যও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কসংকেত জারির পর পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, শুধু প্রচারণাই নয়, প্রশাসনের কয়েকটি বিশেষ দল সরাসরি মাঠে কাজ করছে। প্রয়োজন হলে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে।
সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় পাহাড়সংলগ্ন বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মসজিদ ও মাদ্রাসাকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেখানে প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামে অতীতেও ভারী বর্ষণের সময় একাধিকবার ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির নজির রয়েছে। ফলে এবারও টানা বৃষ্টির মধ্যে প্রশাসন আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যাতে কোনো ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বা পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী সবাইকে নির্দেশনা মেনে দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ রাখার এবং প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক