৬০টি দেশের ওপর নতুন মার্কিন শুল্ক, কার্যকর শুক্রবার থেকে The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

৬০টি দেশের ওপর নতুন মার্কিন শুল্ক, কার্যকর শুক্রবার থেকে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 24, 2026 ইং
৬০টি দেশের ওপর নতুন মার্কিন শুল্ক, কার্যকর শুক্রবার থেকে ছবির ক্যাপশন:

জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রোধে কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে বিশ্বের প্রায় ৬০টি প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর নতুন আমদানি শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (২৪ জুলাই) থেকে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্তের আওতায় যুক্তরাজ্য, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, জাপান ও ভারতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদারও রয়েছে।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। এর মাধ্যমে চলতি বছরের শুরুতে সব বিদেশি পণ্যের ওপর অস্থায়ীভাবে আরোপ করা ১০ শতাংশ শুল্কের মেয়াদ শেষ হয়ে নতুন হার কার্যকর হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতির গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ।

হোয়াইট হাউস গত মাসেই ইঙ্গিত দিয়েছিল, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে নতুন শুল্ক আরোপ করা হবে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশেই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এক বিবৃতিতে গ্রিয়ার বলেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অন্যায্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম—উভয় সমস্যার মোকাবিলা করা হবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

নতুন শুল্ক আরোপে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা ব্যবহার করা হয়েছে। এই ধারার আওতায় এমন বিদেশি বাণিজ্যিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়, যা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের জন্য ক্ষতিকর বা অন্যায্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই শুল্ক দেশটির শীর্ষ ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এসব দেশ থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ আসে। যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে এবং তা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। অন্যদিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়া দেশগুলোর জন্য শুল্কের হার হবে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।

ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই আমদানি শুল্ককে দেশীয় শিল্প ও শ্রমিক সুরক্ষার কার্যকর উপায় হিসেবে তুলে ধরছে। তাদের দাবি, উচ্চ শুল্ক দেশীয় উৎপাদন বাড়ায়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করে। তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করেন, এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপরই পড়ে। কারণ অতিরিক্ত শুল্কের ব্যয় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত করে দেয়, ফলে কফি, ইলেকট্রনিক পণ্যসহ দৈনন্দিন ব্যবহারের নানা পণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে।

এদিকে নতুন শুল্ককে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো আইনি চ্যালেঞ্জ, পাল্টা শুল্ক আরোপ কিংবা অন্যান্য কূটনৈতিক পদক্ষেপ বিবেচনা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র আরও ১৬টি দেশের অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে। তদন্ত শেষে চলতি বছরের শেষ দিকে আরও নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
অপরাজিত থেকেই সুপার এইটে ভারত

অপরাজিত থেকেই সুপার এইটে ভারত