যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে মার্কিন সামরিক বাহিনী টানা তিন রাত ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান পরিচালনা করেছে। তার দাবি, এসব অভিযানে একাধিকবার ইরানের রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে এবং বর্তমানে দেশটির কার্যকর কোনো রাডার অবশিষ্ট নেই।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বারবার ইরানের রাডার অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান সম্প্রতি একটি নতুন ও আধুনিক রাডার ব্যবস্থা স্থাপন করেছিল। তবে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সেটিও ধ্বংস করে দিয়েছে। ফলে ইরানকে আবার নতুন করে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে বলে তিনি দাবি করেন।
ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র আরও সামরিক পদক্ষেপ নেবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সামরিক সক্ষমতা রয়েছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সাক্ষাৎকারে তিনি আরও দাবি করেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী।
ট্রাম্পের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত মার্কিন নৌঅভিযান শুধু একটি অবরোধ ছিল না; বরং এটি ছিল একটি ‘ইস্পাতের দেয়াল’। তিনি দাবি করেন, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী নৌবাহিনী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এমন অভিযান পরিচালনা করেছে, যার ফলে কোনো জাহাজই ইরানে পৌঁছাতে পারেনি।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তার দাবি, বর্তমান সময়ে ইরানের অর্থনীতি চরম সংকটের মধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, দেশটিতে মূল্যস্ফীতি ৩০০ শতাংশে পৌঁছেছে এবং ইরান কার্যত উল্লেখযোগ্য কোনো আয় করতে পারছে না।
তবে ট্রাম্পের এসব বক্তব্যের বিষয়ে এই প্রতিবেদনে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
কসমিক ডেস্ক