বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নিজের অসাধারণ গোল করার ক্ষমতার প্রমাণ দিলেন ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। সুইডেনের বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচে জোড়া গোল করে শুধু দলকে জয়ই উপহার দেননি, গড়েছেন একাধিক রেকর্ডও। এই জয়ে ফ্রান্স নিশ্চিত করেছে শেষ ষোলোর টিকিট, আর এমবাপ্পে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা গোলদাতাদের তালিকায়।
ম্যাচের শুরুতেই এমবাপ্পে বল জালে জড়িয়েছিলেন। তবে অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হওয়ায় হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা কিছুটা ম্লান হয়ে যায়। এরপরও তিনি থেমে থাকেননি। ম্যাচের ৪৫ মিনিটে প্রথম গোল করে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করে তোলেন।
এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সর্বাধিক গোলের রেকর্ডে পেছনে ফেলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও এবং লিওনিদাসকে। এর আগে তিনজনেরই নকআউট পর্বে গোলসংখ্যা ছিল ৯। এমবাপ্পের প্রথম গোলেই সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাসের সূচনা হয়।
এরপর ম্যাচের ৭৪ মিনিটে আরও একটি গোল করে নিজের নকআউট গোলসংখ্যা ১০-এ উন্নীত করেন ফরাসি এই তারকা। টুর্নামেন্টে ফ্রান্সের যাত্রা অব্যাহত থাকায় সামনে এই রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগও রয়েছে।
শুধু নকআউট রেকর্ডই নয়, বিশ্বকাপের সর্বমোট গোলসংখ্যাতেও বড় এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন এমবাপ্পে। জোড়া গোলের পর তার মোট বিশ্বকাপ গোল দাঁড়িয়েছে ১৮। এতে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় আরও ওপরে উঠে এসেছেন এবং বর্তমানে ১৯ গোল নিয়ে শীর্ষে থাকা লিওনেল মেসির মাত্র এক গোল দূরে অবস্থান করছেন।
এবারের বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত গোলের সংখ্যাতেও মেসিকে স্পর্শ করেছেন এমবাপ্পে। দুজনেরই গোলসংখ্যা এখন ৬। ফলে গোল্ডেন বুটের দৌড় আরও জমে উঠেছে। এই তালিকায় ৫ গোল নিয়ে তাদের ঠিক পেছনেই রয়েছেন নরওয়ের স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড।
অন্যদিকে ৪টি করে গোল করেছেন ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে এবং ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ফলে টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচগুলো গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সুইডেনের বিপক্ষে ফ্রান্সের তৃতীয় গোলটি করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। এমবাপ্পের জোড়া গোল এবং বারকোলার এক গোলে শক্তিশালী জয় তুলে নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শেষ ষোলোয় জায়গা নিশ্চিত করেছে ফরাসিরা।
মাত্র ২৭ বছর বয়সেই বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সফল গোলদাতাদের কাতারে নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। বর্তমান ফর্ম ধরে রাখতে পারলে বিশ্বকাপের বহু রেকর্ডই ভবিষ্যতে তার দখলে যেতে পারে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
কসমিক ডেস্ক