এনসিপির সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের এমপি পদ নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে বিএনপি নেতা রাশেদ খান–এর এক ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে। তিনি দাবি করেছেন, নির্বাচনী হলফনামায় ভুল তথ্য দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে যদি কোনো সংক্ষুব্ধ প্রার্থী বা ভোটার হাইকোর্টে রিট করেন, তাহলে আইনগত প্রক্রিয়ায় হান্নান মাসউদের সংসদ সদস্য পদও বাতিল হতে পারে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খান এই মন্তব্য করেন। তার এই বক্তব্য আসে চট্টগ্রাম-৪ আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের রায়ের পর।
আপিল বিভাগ মঙ্গলবার আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করে রায় দেন। এর ফলে ওই আসনের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করা যাবে না। আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রাশেদ খান বিষয়টিকে আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকায় আসলাম চৌধুরীর ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া স্বাভাবিক ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই পরিস্থিতির কারণেই তিনি ঋণখেলাপি হয়েছেন। তাই এ বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করার কোনো সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।
একই পোস্টে তিনি আরও বলেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলছে বলেই জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পরও আসলাম চৌধুরী সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারেননি। তিনি আরও দাবি করেন, যদি তিনি অন্যভাবে ঋণ গ্রহণের ব্যবস্থা করতেন, তাহলে হয়তো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না।
এরপরই এনসিপির সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খান বলেন, নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী হলফনামায় ভুল তথ্য দিলে একজন সংসদ সদস্যের পদ বাতিল হতে পারে। তার দাবি, হান্নান মাসউদ নিজেই তার হলফনামায় ভুল তথ্য থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাই হাতিয়া আসনের কোনো সংক্ষুব্ধ প্রার্থী বা ভোটার যদি হাইকোর্টে রিট করেন, তাহলে আইনগত প্রক্রিয়ায় তার এমপি পদও বাতিল হতে পারে।
তিনি পোস্টের শেষাংশে মন্তব্য করেন, "আইন তার নিজ গতিতেই চলুক।"
রাশেদ খানের এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট আদালতের পক্ষ থেকে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত বা মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, এই মন্তব্য সম্পূর্ণভাবে বিএনপি নেতা রাশেদ খানের ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতে এসেছে। হান্নান মাসউদের সংসদ সদস্য পদ বাতিলের বিষয়ে বর্তমানে আদালতের কোনো চূড়ান্ত রায় বা নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি। ভবিষ্যতে কোনো আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে সেটি আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে
কসমিক ডেস্ক