ঝালকাঠিতে চুরি হওয়া বিটুমিনের সূত্র ধরে পিরোজপুরে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিটুমিন উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৪ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার সেউতিবাড়ীয়া এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মোট ৫৮ ব্যারেল বিটুমিন জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঝালকাঠি সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় জিয়ানগর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং ‘মেসার্স পলাশ এন্টারপ্রাইজ’-এর ঠিকাদার শাকিল মাহমুদ পলাশ হাওলাদারের হেফাজত থেকে এসব বিটুমিন উদ্ধার করা হয়।
তদন্তে জানা গেছে, ঝালকাঠি জেলা সদরের ‘শ্যাডো কনস্ট্রাকশন’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মেজবা উদ্দিন মিন্টু গত ২৭ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে রাস্তা নির্মাণের কাজে ব্যবহারের জন্য ২৫ ব্যারেল বিটুমিন ক্রয় করেন। পরবর্তীতে ২ মার্চ ওই বিটুমিন ঝালকাঠি থেকে চুরি হয়ে যায়। এই ঘটনায় ৫ মার্চ ঝালকাঠি সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চোরাই বিটুমিন পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ট্রাক শনাক্ত করে। এরপর ট্রাকচালককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পিরোজপুরের জিয়ানগরে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই উদ্ধার করা হয় ৫৮ ব্যারেল বিটুমিন, যা তদন্তে নতুন মোড় এনে দিয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আসাদুল ইসলাম জানান, উদ্ধার হওয়া বিটুমিনের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি অভিযুক্ত শাকিল মাহমুদ পলাশ হাওলাদার। ফলে বিটুমিনগুলো চোরাই কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে।
তবে অভিযুক্ত শাকিল মাহমুদ পলাশ হাওলাদার দাবি করেছেন, উদ্ধার হওয়া ৫৮ ব্যারেল বিটুমিনের মধ্যে ৩৩ ব্যারেলের বৈধ কাগজপত্র তার কাছে রয়েছে। বাকি ২৫ ব্যারেল কীভাবে তার গুদামে এসেছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে জানা গেছে।
পুলিশ বলছে, পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। চুরি হওয়া বিটুমিনের সঙ্গে উদ্ধারকৃত বিটুমিনের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ধরনের ঘটনায় সাধারণত একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে নির্মাণসামগ্রী চুরি ও অবৈধভাবে সংরক্ষণের সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোর বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয়দের মধ্যেও এ ঘটনা নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেকেই মনে করছেন, চুরি হওয়া নির্মাণসামগ্রী এভাবে অন্য এলাকায় সরিয়ে ফেলা হলে তা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ব্যবহারের ফলে পুলিশ দ্রুত এসব অপরাধ উদঘাটন করতে পারছে।
এই ঘটনায় উদ্ধার হওয়া বিটুমিন প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও পরবর্তী তদন্তের ওপর নির্ভর করবে বলে জানা গেছে। পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষ হলে সবকিছু পরিষ্কার হবে।
কসমিক ডেস্ক