দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট গ্রস রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৮২১ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ৩৪.৮২ বিলিয়ন ডলারে।
বুধবার (৩ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ৩ জুন পর্যন্ত দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ এই পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, এর আগে ১ জুন পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৪ হাজার ৭৬৬ দশমিক ৯৯ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ স্বল্প সময়ের ব্যবধানে রিজার্ভে কিছুটা বৃদ্ধি দেখা গেছে, যা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) মানদণ্ড অনুযায়ী বিপিএম-৬ (BPM6) হিসাব পদ্ধতিতে দেশের রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ১৬০ দশমিক ৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর আগে এই পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল ৩০ হাজার ১০৭ দশমিক ৬১ মিলিয়ন ডলার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রস রিজার্ভ এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ—দুটিই দেশের বৈদেশিক লেনদেন সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ সূচক। গ্রস রিজার্ভ হলো মোট রিজার্ভের হিসাব, যেখানে স্বল্পমেয়াদি দায় বাদ দেওয়া হয় না। অন্যদিকে বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে স্বল্পমেয়াদি দায় বাদ দিয়ে প্রকৃত বা নিট রিজার্ভের কাছাকাছি একটি চিত্র পাওয়া যায়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, রপ্তানি আয় স্থিতিশীল থাকা এবং আমদানি ব্যয় কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকায় সাম্প্রতিক সময়ে রিজার্ভে ইতিবাচক গতি এসেছে। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং জ্বালানি ও ডলারের বাজার পরিস্থিতি ভবিষ্যতে রিজার্ভ প্রবাহকে প্রভাবিত করতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিতভাবে রিজার্ভ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে নীতি সমন্বয় করছে বলে জানা গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থনীতির সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রিজার্ভ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, বিশেষ করে আমদানি ব্যয় মেটানো এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে।
বর্তমান রিজার্ভ পরিস্থিতি অর্থনীতির জন্য স্বস্তিদায়ক হলেও দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে রপ্তানি বৃদ্ধি, রেমিট্যান্স প্রবাহ ধরে রাখা এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করছেন অর্থনীতিবিদরা।
সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক রিজার্ভ বৃদ্ধিকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।
কসমিক ডেস্ক