দেশের বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য স্বস্তির খবর এসেছে। এপ্রিল মাসের বেতনের প্রস্তাব ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, যা বেতন-ভাতা ছাড়ের প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) এই প্রস্তাব পাঠিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এর আগে সোমবারই জানা গিয়েছিল যে, দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হতে পারে। সেই পূর্বাভাস অনুযায়ী নির্ধারিত সময়েই প্রস্তাবটি পাঠানো হয়েছে।
মাউশির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম শেষ করে দ্রুত সময়ের মধ্যেই বেতন-ভাতা ছাড় করা হবে। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীরা শিগগিরই তাদের এপ্রিল মাসের বেতন হাতে পেতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রক্রিয়াটি সাধারণত কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের প্রস্তাব তৈরি করে পাঠান। এরপর সেই প্রস্তাব অনলাইনভিত্তিক বিল দাখিল পদ্ধতির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হয়।
যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়-এর সঙ্গে সমন্বয় করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেলে বেতন-ভাতা ছাড়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
সবশেষে অনুমোদিত অর্থ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে প্রদান করা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটি এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হওয়ায় আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বচ্ছ ও দ্রুত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সরকার ইতোমধ্যে এমপিওভুক্তদের বেতন প্রদানের ক্ষেত্রে একটি আধুনিক ডিজিটাল বিল দাখিল ও অনুমোদন ব্যবস্থা চালু করেছে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে বেতন প্রক্রিয়াকরণে জবাবদিহিতা বেড়েছে এবং সময়ও কম লাগছে। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীরা তুলনামূলক দ্রুত তাদের প্রাপ্য অর্থ পাচ্ছেন।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়মিত ও সময়মতো বেতন প্রদান নিশ্চিত করা শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শিক্ষকরা আর্থিক নিশ্চয়তা পেলে তারা আরও মনোযোগ দিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে পারেন।
এপ্রিল মাসের বেতন প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হওয়ায় এখন শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। অনেকেই আশা করছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যেই বেতন-ভাতা ছাড় হবে এবং তারা কোনো ধরনের দেরি ছাড়াই তাদের প্রাপ্য অর্থ হাতে পাবেন।
সব মিলিয়ে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য এটি একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন সবার নজর রয়েছে চূড়ান্ত অনুমোদন ও বেতন ছাড়ের দিকে।
কসমিক ডেস্ক