চট্টগ্রামের Sandwip উপজেলায় সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক স্থানীয় নেতা। রবিবার (২৬ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে উপজেলার মগধরা ইউনিয়নের পেলিশ্যার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তির নাম Hafeez Ahmed Sajib। তিনি মগধরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে Bangladesh Jamaat-e-Islami-এর সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সজীব রাতের দিকে পেলিশ্যার বাজার থেকে নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। পথিমধ্যে বাজারের পূর্ব পাশে পৌঁছলে একদল দুর্বৃত্ত তার গতিরোধ করে। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালানো হয়। হামলায় তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে হামলাকারীরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, তার মাথায় একাধিক গুরুতর আঘাত রয়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আহত সজীবের দাবি, তিনি সম্প্রতি দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় থাকায় কিছুদিন ধরে হুমকির মুখে ছিলেন। তার ভাষ্যমতে, ছাত্রদল ও যুবদলের পরিচয় দিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল। হামলার সময় তিনি আকবর ও আলভি নামে দুজনকে শনাক্ত করতে পেরেছেন বলেও দাবি করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। উপজেলা জামায়াত নেতারা এক বিবৃতিতে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত দোষীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আদর্শিক রাজনীতির কারণে একজন নেতার ওপর এমন প্রাণঘাতী হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আমির আলাউদ্দীন সিকদার বলেন, “গণতান্ত্রিক পরিবেশে রাজনীতি করতে গিয়ে এ ধরনের হামলা উদ্বেগজনক। আমরা দ্রুত বিচার ও অপরাধীদের শাস্তি দাবি করছি। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।”
অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুজন হালদার জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
এই ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, এমন সহিংস ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।
সব মিলিয়ে, সন্দ্বীপে এই হামলার ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপের ওপর এখন সবার নজর রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক