সরকারের প্রতি গঠনমূলক অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, তার দল অনুগত বিরোধী দলে পরিণত হবে না; আবার শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতাও করবে না। সরকারের ভালো উদ্যোগগুলো সমর্থন করা হবে, তবে কোনো মন্দ বা অন্যায় কাজ হলে তা প্রতিহত করা হবে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সিলেট নগরীর আমানুল্লাহ কনভেনশন হলে মহানগর জামায়াত আয়োজিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং তার দল ফলাফল মেনে নিয়েছে—সেটি আনন্দের সঙ্গে হোক বা অনিচ্ছাসত্ত্বেও। অতীতে নির্বাচন অস্বীকারের যে সংস্কৃতি ছিল, সে পথে তারা ফিরতে চাননি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, অন্ধভাবে বিরোধিতা করে দেশের উপকার হয় না; বরং ক্ষতি হয়। তার মতে, বিরোধী দলের দায়িত্ব হলো সঠিক বিষয়ে সমর্থন দেওয়া এবং ভুলের ক্ষেত্রে সংশোধনের দাবি তোলা। এ অবস্থান থেকেই তারা রাজনীতি করতে চান।
সরকারি দলের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, অপরাধ ও চাঁদাবাজি নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে আগামী পাঁচ বছরে দেশের দৃশ্যমান পরিবর্তন সম্ভব। সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে সবাইকে তার ফল ভোগ করতে হবে।
বক্তব্যে রমজান মাসের তাৎপর্যও তুলে ধরেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, এ মাসেই পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে। কোরআন কেবল মুসলমানদের জন্য নয়; এটি সমগ্র মানবজাতির জন্য পথনির্দেশনা।
দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সঠিক প্রশিক্ষণ ও সুযোগের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ করে তুলতে পারলে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। সঞ্চালনায় ছিলেন মহানগর সেক্রেটারি মুহাম্মদ শাহজাহান আলী।
ইফতার মাহফিলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, পেশাজীবী প্রতিনিধি এবং সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে মতামত তুলে ধরেন এবং রমজানের আত্মশুদ্ধির শিক্ষা ব্যক্তিজীবন ও রাষ্ট্রীয় জীবনে প্রয়োগের আহ্বান জানান।
ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে একদিকে যেমন সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগে সমর্থনের বার্তা ছিল, অন্যদিকে অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও ছিল স্পষ্ট। তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
সর্বোপরি, তিনি রাজনীতিতে দায়িত্বশীল ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, গঠনমূলক সমালোচনা ও নীতিগত অবস্থানই একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিত্তি হতে পারে।
কসমিক ডেস্ক