চীনের অন্যতম শীর্ষ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. চেন ঝিমিনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। উপাচার্যের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষা, গবেষণা এবং প্রযুক্তিভিত্তিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রতিনিধিদলে ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পিং ঝাং, অধ্যাপক ইন ঝিগুয়াং, অধ্যাপক ঝেং ইউসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সেন্টার ফর চায়না স্টাডিজের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রাকিবুল হক এবং কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. ইয়ং হুই বৈঠকে অংশ নেন।
সাক্ষাৎকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বিষয়ে ডুয়াল ডিগ্রি (Dual Degree) প্রোগ্রাম চালুর সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একই সঙ্গে এআই গভর্ন্যান্স (AI Governance) বিষয়ে যৌথ একাডেমিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকদের ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং ফেলো হিসেবে কাজ করার সুযোগ তৈরির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে চীনা প্রতিনিধিদল।
বৈঠকে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যৌথ গবেষণা, গবেষণাপত্র প্রকাশ, শিক্ষক-গবেষক-শিক্ষার্থী বিনিময় এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও তথ্য আদান-প্রদানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ সহযোগিতাকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে শিগগিরই একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের বিষয়ে উভয় পক্ষ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। প্রতিবছরই বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য চীনে যান। শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ সময় তিনি ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বেশি স্কলারশিপ এবং যৌথ একাডেমিক কর্মসূচির সুযোগ বাড়াতে সহযোগিতা কামনা করেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা, উদ্ভাবন এবং উচ্চশিক্ষা সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
কসমিক ডেস্ক