বিপুল অর্থ ব্যয়: শেখ মুজিবের স্মৃতি সংরক্ষণে খরচ হলো ৪২১১ কোটি টাকা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বিপুল অর্থ ব্যয়: শেখ মুজিবের স্মৃতি সংরক্ষণে খরচ হলো ৪২১১ কোটি টাকা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 10, 2026 ইং
বিপুল অর্থ ব্যয়: শেখ মুজিবের স্মৃতি সংরক্ষণে খরচ হলো ৪২১১ কোটি টাকা ছবির ক্যাপশন:
ad728

শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি সংরক্ষণ ও প্রচারের উদ্দেশ্যে গত দেড় দশকে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্পে এই ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ হাজার ২১১ কোটি ২২ লাখ টাকা। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি শ্বেতপত্রে এই ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব উঠে এসেছে।

৪৭২ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নেওয়া একাধিক প্রকল্পের বড় অংশই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শেখ মুজিবকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন, তথ্যচিত্র ও চলচ্চিত্র নির্মাণ, ডিজিটাল কনটেন্ট প্রস্তুত এবং বিভিন্ন স্মারক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত ছিল।

শ্বেতপত্র অনুযায়ী, ‘মুজিব ভাই’ নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ, সংশ্লিষ্ট প্রচারণা এবং আনুষঙ্গিক কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হয়। পাশাপাশি ‘খোকা’ নামের আরেকটি চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রেও ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ের তথ্য উঠে এসেছে। এসব প্রকল্পে ব্যয়ের যৌক্তিকতা ও বাস্তব ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আইসিটি অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) এবং বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের অধীনে পরিচালিত বহু প্রকল্পে শেখ মুজিবকে কেন্দ্র করে ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির নামে অতিমূল্যায়ন ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্পের ঘোষিত লক্ষ্য পূরণ হয়নি, কিন্তু নির্ধারিত অর্থ সম্পূর্ণভাবে উত্তোলন করা হয়েছে।

শ্বেতপত্রে আরও বলা হয়, স্মৃতি সংরক্ষণের নামে নেওয়া এসব প্রকল্প দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কাঠামোগত উন্নয়নে প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারেনি। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, উদ্ভাবন কিংবা প্রযুক্তি রপ্তানিতে এসব ব্যয়ের সরাসরি সুফল খুব সীমিত ছিল।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার এসব ব্যয়ের স্বচ্ছতা যাচাইয়ে তদন্ত শুরু করে। ২০২৫ সালজুড়ে চলা অনুসন্ধানের পর ২০২৬ সালের শুরুতে এই শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হয়। অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. নিয়াজ আসাদুল্লাহর নেতৃত্বাধীন কমিটি এই তদন্ত পরিচালনা করে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইতিহাস ও স্মৃতি সংরক্ষণ রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলেও তার নামে রাষ্ট্রীয় অর্থের অযৌক্তিক ব্যবহার গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁদের মতে, এই ব্যয়ের দায় নিরূপণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতি জনগণের আস্থা আরও দুর্বল হবে।

বর্তমানে শ্বেতপত্রের সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং ব্যয়ের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যালট বাক্স ছিনতাই অসম্ভব: স

নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যালট বাক্স ছিনতাই অসম্ভব: স