আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দুই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে ব্রাজিল সরকার। দেশটির কর্মকর্তাদের দাবি, নির্বাচনী পরিবেশে প্রভাব ফেলা এবং ভোটব্যবস্থা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরির প্রচেষ্টার অভিযোগেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ভিসা আবেদন নাকচ হওয়া দুই কর্মকর্তা হলেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সহকারী সচিব রাইলি এম. বার্নস এবং উপ-সহকারী সচিব স্যামুয়েল স্যামসন। ব্রাজিলের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের আশঙ্কা থেকেই তাদের ভিসা আবেদন বাতিল করা হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে বর্তমান বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কট্টর ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোর বিরুদ্ধে। ফ্লাভিও সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে পরিচিত।
ব্রাজিল সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্বাচনের পরিবেশকে বিভ্রান্তিকর করে তোলা এবং ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থা নিয়ে সন্দেহ তৈরির স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়ার পর গত শুক্রবার মার্কিন প্রতিনিধিদলের ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেছেন, বার্নস ও স্যামসনের সফরটি মানবাধিকার, গণতন্ত্র এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে নিয়মিত কূটনৈতিক আলোচনার অংশ ছিল। নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগকে তিনি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুলা দা সিলভার কাছে পরাজয়ের পর সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থা নিয়ে নানা অভিযোগ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছিলেন। পরবর্তীতে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নির্বাচনের ফলাফল উল্টে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তাকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং ২০৩০ সাল পর্যন্ত নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। বর্তমানে তিনি গৃহবন্দী রয়েছেন।
এদিকে, তার ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারোও চলমান নির্বাচনী প্রচারণায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্রাজিলের ভোটিং ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। ফলে নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার পাশাপাশি ব্রাজিল-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কেও নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক