ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স দ্বিতীয় সেমিস্টারের এক পরীক্ষায় শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে ঘিরে প্রশ্ন আসায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে এবং একাডেমিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সোমবার অনুষ্ঠিত ‘পলিটিক্স অ্যান্ড ল : গ্লোবাল অ্যান্ড ন্যাশনাল ইনস্টিটিউশনস, ইন্সট্রুমেন্টস অ্যান্ড ইস্যুজ’ শীর্ষক কোর্সের ফাইনাল পরীক্ষায় তার বক্তব্য ও সংগ্রামভিত্তিক একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
প্রশ্নপত্রে ওসমান হাদির দুটি আলোচিত উক্তি—‘জান দেবো, তবু জুলাই দেবো না’ এবং ‘আমি আমার শত্রুর সাথেও ইনসাফ করতে চাই’—উদ্ধৃত করে মানবাধিকারের পক্ষে তার অবস্থান ও সংগ্রামের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে বলা হয়। পাশাপাশি ‘আয়নাঘর’কে একটি ‘সিস্টেমেটিক টুল’ হিসেবে স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কীভাবে কাজ করেছে, তা বিশ্লেষণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
কোর্সটির দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের পাঠ্যক্রমে সমসাময়িক বাস্তবতা প্রায়ই উপেক্ষিত থাকে। তার মতে, জুলাই বিপ্লব, আয়নাঘর এবং ওসমান হাদির আগ্রাসনবিরোধী অবস্থানসহ ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের প্রশ্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় গুরুত্ব পাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের উচ্চতর গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করতে এবং সমসাময়িক ইতিহাসকে একাডেমিক আলোচনার অংশ করতে তিনি এ ধরনের প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, চলতি ও গত বছরের পরীক্ষার্থীদের অনেকেই জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাদের সহপাঠীদের কেউ প্রাণ হারিয়েছেন, কেউ স্থায়ীভাবে আহত হয়েছেন। তাই নিজেদের সময় ও অভিজ্ঞতা নিয়ে একাডেমিক বিশ্লেষণের সুযোগ থাকা উচিত বলেও তিনি মনে করেন।
এর আগে গত বছরও একই কোর্সের পরীক্ষায় জুলাই বিপ্লব সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত হলে আলোচনা তৈরি হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সমসাময়িক রাজনৈতিক ও মানবাধিকার বিষয়ক ইস্যু অন্তর্ভুক্তির এ প্রবণতা নিয়ে মতভিন্নতা থাকলেও সংশ্লিষ্টরা একে গবেষণাভিত্তিক শিক্ষার বিস্তারের অংশ হিসেবে দেখছেন।
কসমিক ডেস্ক