রংপুর বিনোদন উদ্যান চিড়িয়াখানায় হরিণের সংখ্যা নিয়ে গড়মিলের অভিযোগ উঠেছে। বিক্রি ও মৃত হরিণের হিসাব বাদ দেওয়ার পর চিড়িয়াখানায় ৫৮টি হরিণ থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে রয়েছে ৫৫টি। ফলে তিনটি হরিণের হদিস নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একই সময়ে এক বছরে বিভিন্ন প্রজাতির আটটি পশুপাখিও কমেছে।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সেখানে ৫৫টি হরিণ রয়েছে। এসব হরিণ দুটি বেষ্টনীতে রাখা হয়েছে। তবে জায়গার তুলনায় হরিণের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সেগুলো গাদাগাদি করে থাকতে বাধ্য হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি খাবারের সংকটের কথাও জানা গেছে।
চলতি অর্থবছরে সরকার নির্ধারিত ৫০ হাজার টাকা দরে দুটি হরিণ বিক্রি করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি হরিণ মারা গেছে। আগের বছর চিড়িয়াখানায় ৬২টি হরিণ ছিল। দুটি বিক্রি ও একটি মারা যাওয়ার পর ৫৯টি থাকার কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষের হিসাবে ৫৮টি থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে ৫৫টি থাকায় হিসাবের এই পার্থক্য নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
পশুপ্রেমীদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, নিখোঁজ তিনটি হরিণ অবৈধভাবে অন্যত্র বিক্রি করা হয়ে থাকতে পারে। আবার কেউ কেউ সেগুলো জবাই করে খেয়ে ফেলার অভিযোগও তুলছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ১০ বছরে প্রায় ৪০টি হরিণ বৈধভাবে বিক্রি হয়েছে। বন্যপ্রাণী পালনের ক্ষেত্রে বন বিভাগের অনুমোদন প্রয়োজন হয় এবং অনুমোদিত ব্যক্তিদের কাছেই প্রাণী হস্তান্তরের নিয়ম রয়েছে। এসব প্রাণী শিকার, পাচার বা খাওয়ার জন্য নয়; কেবল লালন-পালনের উদ্দেশ্যে দেওয়ার বিধান রয়েছে।
এদিকে, এক বছরে উটপাখিসহ বিভিন্ন প্রজাতির আটটি পশুপাখি কমেছে। বর্তমানে চিড়িয়াখানায় ২৯ প্রজাতির ২৫২টি প্রাণী রয়েছে। আগের বছর ছিল ৩১ প্রজাতির ২৬০টি।
তবে রংপুর চিড়িয়াখানার ভেটেরিনারি সার্জন ডা. এইচ এম শাহাদাত দাবি করেছেন, হরিণের হিসাবে কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই। তাঁর ভাষ্য, প্রদর্শনের জন্য প্রয়োজনের তুলনায় বেশি হরিণ থাকলেও এ নিয়ে অনিয়ম হয়নি।
কসমিক ডেস্ক