কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় নাফ নদীতে মাছ ধরার সময় মিয়ানমার অংশ থেকে ছোড়া গুলিতে এক বাংলাদেশি জেলে আহত হয়েছেন। আহত জেলের নাম মোহাম্মদ আলমগীর। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুর থেকে তিনি কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নাফ নদীর বাংলাদেশ জলসীমার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের বিলাইচ্ছর দ্বীপ-সংলগ্ন এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতের বেলায় নৌকায় অবস্থান করে মাছ ধরার সময় হঠাৎ সীমান্তের ওপার থেকে কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। এর মধ্যেই একটি গুলি আলমগীরের বাম হাতে বিদ্ধ হয়ে বেরিয়ে যায়, ফলে তিনি গুরুতর আহত হন।
আলমগীর টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বালুখালী গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত ছৈয়দ বলির ছেলে। ঘটনার সময় তার সঙ্গে আরেক জেলে আকবর নৌকায় ছিলেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে আলমগীর নৌকার ভেতর লুটিয়ে পড়লে সহকর্মী জেলেরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করেন।
আহত জেলের বড় ভাই সরওয়ার আলম জানান, প্রথমে আলমগীরকে উখিয়ার কুতুপালং এমএমএস হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু জানান, সীমান্তবর্তী এই এলাকায় প্রায়ই গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বৃহস্পতিবার রাতেও এমন শব্দ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, সীমান্তের ওপার থেকে ছোড়া গুলিতেই স্থানীয় এক জেলে আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে উখিয়া ৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম জানান, জেলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার তথ্য তারা পেয়েছেন। ঘটনার পর নাফ নদী-সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি আরও বলেন, নদীতে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কিছু জেলে ঝুঁকি নিয়ে সেখানে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় জেলেদের সচেতন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশীপের উত্তর মংডু এলাকায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরকান আর্মি নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করছে। জান্তা নিয়ন্ত্রিত সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে তাদের সংঘাত চলছে।
এই সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশ সীমান্তেও পড়ছে। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত নতুন করে অন্তত ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা সহিংসতার কারণে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এর আগেও গত ১৩, ১৭ ও ২৭ ডিসেম্বর নাফ নদী ও আশপাশের সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে।