রাজধানীর মগবাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে শম্পা আক্তার (২৬) নামে এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (১৮ জানুয়ারি) ভোরের দিকে বড় মগবাজার এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। পরে অচেতন অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত শম্পা আক্তার তার স্বামী সুমন মিয়ার সঙ্গে রাজধানীর বড় মগবাজার এলাকার ২৫৬/১ নম্বর আশরাফুল ভিলার সাততলা ভবনের ষষ্ঠ তলায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই বাসার একটি কক্ষ থেকেই শম্পার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
হাতিরঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রেজওয়ানুল ইসলাম জানান, ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে রোববার সকাল দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে বড় মগবাজার এলাকার একটি সাততলা ভবনের ষষ্ঠ তলার একটি কক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই নারীর অচেতন দেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধারের সময় ঘরের ভেতরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখনো মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।
এসআই মো. রেজওয়ানুল ইসলাম আরও জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের কারণে শম্পা আক্তার আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত শেষে যদি কোনো অপরাধমূলক দিক পাওয়া যায়, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই দম্পতি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন এবং তাদের পারিবারিক বিষয়ে খুব বেশি কিছু জানা নেই। তবে ঘটনার পর এলাকায় কিছু সময়ের জন্য চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সকাল পৌনে সাতটার দিকে শম্পা আক্তারকে জরুরি বিভাগে আনা হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর পুলিশি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার আগ পর্যন্ত মৃত্যুর বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তদন্তের স্বার্থে সব দিক বিবেচনায় রেখে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।