ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও রোজার নিত্যপণ্যের আমদানিতে এখনো পুরোপুরি সমতা আসেনি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে পাওয়া গত আড়াই মাসের আমদানি তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ছোলা, মসুর ডাল ও চিনির সরবরাহ তুলনামূলক ভালো থাকলেও ভোজ্যতেল ও মটর ডালের আমদানিতে ঘাটতির আশঙ্কা রয়ে গেছে।
এনবিআর সূত্র জানায়, গত ১ নভেম্বর থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে সমুদ্র ও স্থলবন্দর দিয়ে যে পরিমাণ রোজার পণ্য খালাস হয়েছে, তার বাইরে আরও কিছু পণ্য আমদানির পাইপলাইনে রয়েছে। আমদানিকারকেরা জানিয়েছেন, আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে রোজার পণ্যের আমদানি আরও বাড়বে।
তবে শেষ মুহূর্তে বেশি আমদানি হলে সরবরাহব্যবস্থায় চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, রোজার আগে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন যান চলাচল সীমিত থাকবে এবং এর আগে নির্বাচনী প্রচারণার কারণে পরিবহন ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। এতে পণ্য কারখানায় নেওয়া, প্রক্রিয়াজাত করা ও বাজারে সরবরাহে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভোজ্যতেল রোজায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত পণ্যগুলোর একটি। ট্যারিফ কমিশনের হিসাবে, রোজায় ভোজ্যতেলের চাহিদা প্রায় তিন লাখ টন। গত আড়াই মাসে সয়াবিন ও পাম তেল মিলিয়ে আমদানি হয়েছে ৪ লাখ ৩৮ হাজার টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৬ হাজার টন কম। তবে সয়াবিন বীজ আমদানি বেড়েছে ১ লাখ ৬২ হাজার টন, যা থেকে অতিরিক্ত ২৫ থেকে ৩০ হাজার টন তেল উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে।
ভোজ্যতেল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, এখনো বাজারে তেলের চাহিদা তুলনামূলক কম। রোজার আগে আরও কয়েকটি জাহাজ বন্দরে ভিড়বে বলে আশা করা হচ্ছে, ফলে বড় কোনো সংকট হওয়ার সম্ভাবনা কম।
অন্যদিকে মটর ডালের আমদানিতে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি দেখা গেছে। গত আড়াই মাসে মটর ডাল আমদানি হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার টন, যা গত বছরের তুলনায় অনেক কম। তবে ছোলা ও মসুর ডালের ক্ষেত্রে চিত্র ভিন্ন। রোজায় ছোলার চাহিদা প্রায় এক লাখ টন হলেও ইতোমধ্যে আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার টন। মসুর ডাল আমদানিও গত বছরের তুলনায় প্রায় এক লাখ টন বেশি।
চিনির ক্ষেত্রেও সরবরাহ স্বস্তিদায়ক। রোজায় চিনির চাহিদা প্রায় তিন লাখ টন হলেও গত তিন মাসে আমদানি হয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ টন। খেজুরের চাহিদা ৬০ হাজার টন হলেও এ পর্যন্ত আমদানি হয়েছে প্রায় ২১ হাজার টন। খেজুর প্রক্রিয়াজাত করতে না হওয়ায় শেষ মুহূর্তে আমদানি হলেও দ্রুত বাজারজাত করা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোজার আগে নির্বাচন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে নিত্যপণ্যের সরবরাহশৃঙ্খল সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় উৎপাদন, আমদানি ও মজুত বিবেচনায় রেখে চাহিদা-সরবরাহের ভারসাম্য নিয়মিত পর্যালোচনা না করলে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। তাই এখন থেকেই নজরদারি ও তদারকি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তাঁরা।
কসমিক ডেস্ক