ঘন কুয়াশার কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিট থেকে নদীতে দৃশ্যমানতা বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়ায় যাত্রী ও নৌযানের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় যাত্রী ও যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, দূরপাল্লার যাত্রী এবং পণ্যবাহী ট্রাকচালকরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকলেও ফেরি না চলায় পারাপার সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকলেও নদীতে ঝুঁকি নিয়ে ইঞ্জিনচালিত ছোট ট্রলারে করে অবৈধভাবে যাত্রী পারাপার অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘন কুয়াশার মধ্যে এসব ছোট নৌযান চলাচল করায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একাধিক ট্রলারে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হচ্ছে, যা যেকোনো সময় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
নদীপাড়ের বাসিন্দারা জানান, কুয়াশার কারণে সামনে কিছুই দেখা যাচ্ছে না। এই অবস্থায় বড় ফেরি বন্ধ থাকলেও ছোট ট্রলার চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অতীতে এই নৌরুটে এমন পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনার নজিরও রয়েছে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) ও ঘাট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কুয়াশা কেটে নদীর দৃশ্যমানতা স্বাভাবিক হলে দ্রুত ফেরি চলাচল পুনরায় শুরু করা হবে। পাশাপাশি অবৈধভাবে ট্রলার চলাচল বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখা কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মো. সালাহউদ্দিন জানান, ঘন কুয়াশার কারণে বৃহস্পতিবার রাত ২টা ৩০ মিনিট থেকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, কুয়াশা কেটে গেলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক করা হবে। বর্তমানে দৌলতদিয়া প্রান্তে যানবাহনসহ তিনটি ফেরি আটকে রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ফেরি চলাচল পুনরায় শুরু না হওয়া পর্যন্ত নদী পারাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং অবৈধ নৌযানে ওঠা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
কসমিক ডেস্ক