ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় একটি জরাজীর্ণ সেতু স্থানীয় মানুষের জন্য চরম ভোগান্তি ও আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের নারানদিয়া এলাকায় অবস্থিত এই সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তবুও প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই এই সেতু ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ।
শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সেতুর এক পাশের রেলিং সম্পূর্ণ ভেঙে মাটিতে পড়ে আছে। অপর পাশের রেলিংও অর্ধেক ভেঙে ঝুলে রয়েছে। সেতুর পলেস্তারা উঠে গিয়ে ভেতরের রড বেরিয়ে এসেছে। পুরো কাঠামো এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে, কাছ থেকে দেখলে যে কারও মনে আতঙ্ক তৈরি হতে পারে।
স্থানীয়দের ভাষায়, এটি আর সেতু নয়—বরং যেন এক ‘মরণ ফাঁদ’। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ এই সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করছেন।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৪০ বছর আগে নির্মিত নারানদিয়া সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ধীরে ধীরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রায় এক যুগ ধরে সেতুটির এই ভাঙাচোরা অবস্থা থাকলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
রামকান্তপুর গ্রামের ইউপি সদস্য মো. নাসির তালুকদার বলেন, সেতুটি নিয়ে এলাকাবাসী সব সময় আতঙ্কে থাকে। কখন এটি ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে, সেই ভয় সবার মনে কাজ করে।
তিনি বলেন, এই সেতুটি ব্যবহার করে প্রায় দশ হাজার মানুষ প্রতিদিন চলাচল করেন। এলাকাবাসীর জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। তাই দ্রুত এখানে নতুন একটি সেতু নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি।
নারানদিয়া গ্রামের এক ভ্যানচালক জানান, এলাকার সবচেয়ে বড় হাট ময়েনদিয়া বাজারে যেতে হলে এই সেতু পার হওয়া ছাড়া অন্য কোনো সহজ পথ নেই।
তিনি বলেন, বিশেষ করে হাটের দিনে কৃষিপণ্য ভ্যানে করে বাজারে নিতে হলে এই সেতু দিয়েই যেতে হয়। কিন্তু সেতুটির অবস্থা এত খারাপ যে প্রতিবার পার হওয়ার সময় ভয় কাজ করে।
তিনি আরও জানান, শুধু বাজারে যাতায়াতই নয়—এলাকার মানুষ জেলা ও উপজেলা সদরেও এই সেতু ব্যবহার করে যাতায়াত করেন। ফলে কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর ওপর নির্ভরশীল।
স্থানীয় মোটরসাইকেল চালক সেলিম ইসলাম বলেন, সেতুটিতে এর আগেও একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বড় কোনো গাড়ি এই সেতু দিয়ে চলাচল করতে পারে না।
তিনি বলেন, মোটরসাইকেল বা ছোট যানবাহন চলার সময়ও সেতুটি কাঁপতে থাকে। এতে ভয় নিয়েই চলাচল করতে হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটির বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
তবে মাঝে মাঝে প্রকৌশলীরা এসে মাটি পরীক্ষা করে যান বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। কিন্তু এখন পর্যন্ত নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি।
এ বিষয়ে সালথা উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবু জাফর মিয়া বলেন, নারানদিয়া সেতুটির বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখেছেন।
তিনি জানান, সেখানে নতুন একটি সেতু নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে ঢাকায় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা আশা করছেন, দ্রুত প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে এবং দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তির অবসান ঘটবে।
তাদের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি অপসারণ করে সেখানে একটি আধুনিক ও নিরাপদ সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
কসমিক ডেস্ক