ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার এবং আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধের ফলে শাহবাগ ও আশপাশের এলাকায় যানচলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
অবরোধ চলাকালে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে রাজু ভাস্কর্য এলাকা থেকে একটি মিছিল নিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা শাহবাগ মোড়ে এসে অবস্থান নেন এবং সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা শাহবাগের ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলসংলগ্ন সড়ক থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে। পাশাপাশি জলকামান ব্যবহার করা হয় এবং পরে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ ও কয়েক রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়া হয়। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, এ সময় পুলিশ ছররা গুলিও নিক্ষেপ করে।
সংঘর্ষে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। এছাড়া ডাকসুর নেত্রী ফাতেমা তাসনিম জুমা, জকসুর নেত্রী শান্তা আক্তার, রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন বলে আন্দোলনকারীরা জানান। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও দাবি করা হয়।
এদিকে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে যমুনার সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও শুরুতে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বল প্রয়োগ করা হয়নি। তবে শুক্রবার বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে এবং জলকামানের ওপর উঠে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করা হয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই সময় কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের বরাতে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় আহত হয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ মোট ২৩ জন চিকিৎসা নিয়েছেন, তবে কারও শরীরে গুলির আঘাত পাওয়া যায়নি।
সরকারি বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে চিঠি পাঠানো হবে।
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার সবাইকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে একটি শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক