এক সপ্তাহে ভিজিএফের চাল পাননি ভোলার জেলেরা, কষ্টে দিন কাটছে পরিবারগুলোর The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

এক সপ্তাহে ভিজিএফের চাল পাননি ভোলার জেলেরা, কষ্টে দিন কাটছে পরিবারগুলোর

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 8, 2026 ইং
এক সপ্তাহে ভিজিএফের চাল পাননি ভোলার জেলেরা, কষ্টে দিন কাটছে পরিবারগুলোর ছবির ক্যাপশন: নিষেধাজ্ঞার কারণে নদীতে মাছ ধরা বন্ধ, সহায়তার অপেক্ষায় ভোলার জেলেরা—ছবি: সংগৃহীত

ইলিশের অভয়াশ্রমে মাছ ধরায় চলমান নিষেধাজ্ঞা শুরুর এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ভোলার নিবন্ধিত জেলেদের হাতে এখনও পৌঁছায়নি সরকারি ভিজিএফ চাল। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়া জেলেরা পরিবার নিয়ে চরম কষ্টে দিনাতিপাত করছেন বলে জানিয়েছেন তারা।

সরেজমিনে ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের তেতুলিয়া নদী তীরবর্তী এলাকা, মেঘনা নদীর ইলিশা এবং ভোলার খালের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে—জেলেরা সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন। কেউ নদীর তীরে বসে সময় কাটাচ্ছেন, আবার কেউ জাল ও নৌকা-ট্রলার মেরামতের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

জেলা মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, জাটকা সংরক্ষণ এবং ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে প্রতি বছরের মতো এবারও দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার পর থেকে এ নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী ৩০ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত।

এই সময়ের মধ্যে ভোলার মেঘনা নদীর চর ইলিশা থেকে চর পিয়াল পর্যন্ত প্রায় ৯০ কিলোমিটার এবং তেঁতুলিয়া নদীর চর ভেদুরিয়া থেকে চর রুস্তম পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকা ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। মোট ১৯০ কিলোমিটার নদী এলাকায় সব ধরনের মাছ শিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভোলা জেলায় প্রায় দুই লাখের বেশি জেলে রয়েছেন। তাদের মধ্যে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার। এদের মধ্যে ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত চার মাসে প্রতি পরিবারকে ৪০ কেজি করে ভিজিএফ চাল দেওয়ার জন্য মোট ৯০ হাজার ২০০ জেলে পরিবারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তবে অভিযোগ রয়েছে, নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো জেলেদের মাঝে এই চাল বিতরণ শুরু হয়নি। ফলে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবারই খাদ্য সংকটে পড়েছে।

স্থানীয় জেলে হোসেন মাঝি, আলাউদ্দিন মাঝি, সিরাজুল মাঝি, হেলাল, আনোয়ার, সুমন ও বশির উদ্দিন জানান, সরকার নদীতে অভিযান শুরু করার পর তারা নিয়ম মেনে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছেন। কিন্তু মাছ ধরা বন্ধ থাকায় তাদের আয় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

তারা বলেন, “রমজান মাস চলছে, কিন্তু কোনো রোজগার নেই। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন পার করছি। মৎস্য বিভাগ বলেছিল অভিযান শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চাল দেওয়া হবে, কিন্তু এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো পাইনি।”

জেলেরা আরও জানান, নিষেধাজ্ঞার আগে নদীতে মাছ ধরে কিছু টাকা জমিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু বসে বসে খেতে খেতে সেই টাকা প্রায় শেষ হয়ে গেছে। এখন দ্রুত ভিজিএফ চাল বিতরণ না হলে সামনে বড় সংকটে পড়তে হবে।

ভোলা জেলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির সভাপতি মো. এরশাদও একই কথা বলেছেন। তিনি জানান, নিষেধাজ্ঞা শুরুর পর কর্মহীন হয়ে পড়া জেলেরা সরকারি সহায়তা না পাওয়ায় চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।

তিনি বলেন, “জেলেদের মধ্যে দ্রুত ভিজিএফ চাল বিতরণ করা জরুরি। কারণ তাদের অনেকের ঘরেই এখন খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে।”

এ বিষয়ে ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, পূর্বে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি চাল বিতরণ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানা অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল।

তিনি জানান, এবার যেন প্রকৃত জেলেরা সঠিকভাবে তাদের চাল বুঝে পান, সে জন্য সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠক করা হয়েছে। বৈঠকের পরপরই চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে চালের ডিও লেটার উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। খুব শিগগিরই জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণ শুরু হবে।

স্থানীয় জেলেরা আশা করছেন, দ্রুত ভিজিএফ চাল বিতরণ শুরু হলে অন্তত তাদের পরিবারগুলো সাময়িক খাদ্য সংকট থেকে কিছুটা মুক্তি পাবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানের তাৎপর্য

সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানের তাৎপর্য