পাহাড়ের চূড়ায় ডাম্পিং স্টেশন, বর্জ্যে ঢাকা পড়ছে কৃষিজমি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

পাহাড়ের চূড়ায় ডাম্পিং স্টেশন, বর্জ্যে ঢাকা পড়ছে কৃষিজমি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 8, 2026 ইং
পাহাড়ের চূড়ায় ডাম্পিং স্টেশন,  বর্জ্যে ঢাকা পড়ছে কৃষিজমি ছবির ক্যাপশন:

বান্দরবান শহরের উপকণ্ঠে পাহাড়ের চূড়ায় স্থাপিত পৌরসভার অস্থায়ী ডাম্পিং স্টেশনকে ঘিরে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ফেলা পৌরসভার বর্জ্য বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানির সঙ্গে নিচে নেমে ঝিরি, কৃষিজমি এবং সাঙ্গু নদীর দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পানির উৎসও দূষিত হচ্ছে।

সদর উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লেমুঝিড়ির ঘোনাপাড়া এলাকায় সরেজমিনে কৃষিজমিতে প্লাস্টিক, পলিথিন, ভাঙা কাঁচ, হাসপাতালের বর্জ্য, ব্যবহৃত সিরিঞ্জ ও ইনজেকশনের সূঁচ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, গত ৬ থেকে ১৩ জুলাই টানা ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ডাম্পিং স্টেশন থেকে বর্জ্য ভেসে এসে অন্তত ১০ একর কৃষিজমি ঢেকে যায়। এসব জমি এখন চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা এলেই একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জমিতে কাজ করতে গিয়ে সিরিঞ্জ ও ভাঙা কাঁচে পা কেটে যাওয়ার আশঙ্কায় তারা আতঙ্কে থাকেন। একই সঙ্গে বর্জ্যের দুর্গন্ধ ও ময়লার কারণে ঝিরির পানি ব্যবহার করা যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘোনাপাড়া ও আশপাশের মানুষের দৈনন্দিন জীবনে পাহাড়ি ঝিরির পানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। রান্না, গোসল ও গৃহস্থালির বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত সেই পানিতে বর্তমানে প্লাস্টিক, সিরিঞ্জ, ইনজেকশনের সূঁচ, স্যালাইনের ব্যাগসহ বিভিন্ন বর্জ্য ভেসে থাকার অভিযোগ উঠেছে।

পরিবেশবিদ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, পৌর বর্জ্যের সঙ্গে চিকিৎসা বর্জ্য পানির উৎসে মিশলে তা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্মুক্ত ডাম্পিং থেকে তৈরি লিচেট মাটি ও পানির সঙ্গে মিশে দূষণ ঘটাতে পারে। পাশাপাশি প্লাস্টিক ও চিকিৎসা বর্জ্য গবাদিপশু, বন্যপ্রাণী ও জলজ প্রাণীর জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ডাম্পিং স্টেশনটি সাঙ্গু নদীর উজানের পাহাড়ি এলাকায় হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে নদীর পানির গুণগত মানও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে মাছ, জলজ প্রাণী ও নদীনির্ভর মানুষের জীবিকাও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

বান্দরবান পৌরসভা ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এখনো স্থায়ী ও আধুনিক ডাম্পিং ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ৩২ দশমিক ৫৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌর এলাকায় ৭০ হাজারের বেশি মানুষ বসবাস করেন। বর্তমানে অস্থায়ী ডাম্পিং ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

পৌরসভার বর্জ্য অপসারণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা দিদারুল হক চৌধুরী বলেন, কৃষিজমিতে বর্জ্য ফেলার কোনো নির্দেশনা কর্মীদের দেওয়া হয়নি। তবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

বান্দরবান পৌরসভার প্রশাসক এস এম মনজুরুল হক জানান, পৌরসভার বর্জ্যে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জমিতে থাকা বর্জ্য অপসারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত জমি পুনরায় চাষযোগ্য করার বিষয়টি দেখা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নগদ আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ইফতার পার্টিতে ভিড়ের চাপে মেজাজ হারালেন হিনা খান

ইফতার পার্টিতে ভিড়ের চাপে মেজাজ হারালেন হিনা খান