মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের ড্রোন হামলায় নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি সালেহ উদ্দিন ওরফে আহমেদ আলীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। সোমবার (৯ মার্চ) সকালে তার মরদেহ বাংলাদেশে আনা হয় এবং পরে সিলেট হয়ে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
সোমবার সকাল ৮টা ২০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ প্রথমে ঢাকায় পৌঁছে। পরে ঢাকায় আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে করে মরদেহ সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেওয়া হয়। সকাল ১১টার দিকে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর নিহত প্রবাসীর মরদেহ গ্রহণ করা হয়।
বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে মরদেহ গ্রহণ করেন। পরে বিমানবন্দরের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তিনি নিজেই মরদেহ মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার গাজিটেকা গ্রামে তার নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আহমেদ আলীর বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার গাজিটেকা এলাকায়। জীবিকার তাগিদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তিনি পানি সরবরাহের একটি গাড়ির চালক হিসেবে কাজ করতেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমিরাতের আজমান শহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার সময় তিনি নিহত হন। হামলার সময় তিনি কর্মস্থলে ছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে।
নিহত আহমেদ আলীর দুই ছোট ভাই জাকির হোসেন ও বোরহান আহমদও একই শহরে বসবাস করেন। তারাই প্রথমে পরিবারের সদস্যদের কাছে আহমেদ আলীর মৃত্যুর খবর পৌঁছে দেন। খবরটি দেশে পৌঁছানোর পর পরিবার ও এলাকাজুড়ে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণের সময় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সিলেট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. রেজা-উন-নবী, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান এবং সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলমসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরিবারের সদস্যরা আহমেদ আলীর মরদেহ গ্রহণ করে তাকে নিজ গ্রামে দাফনের প্রস্তুতি নেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঢাকায় মরদেহ গ্রহণ থেকে শুরু করে সিলেট হয়ে মৌলভীবাজারের বড়লেখায় তার বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়ায় তারা সার্বিক সহায়তা প্রদান করেছে।
স্থানীয়রা জানান, আহমেদ আলী প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্যরা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
কসমিক ডেস্ক