দীর্ঘ ১৭ বছরেরও বেশি সময় পর দেশে ফেরার প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে রয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি দলীয়ভাবেও নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে ফেরার পর তারেক রহমানের ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স বা সিএসএফ দায়িত্ব পালন করবে। সম্প্রতি এই বাহিনীর কাঠামো পুনর্গঠন করা হয়েছে এবং সদস্য সংখ্যাও বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দশ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবক মাঠে থাকার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ২৪ ডিসেম্বর থেকেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে বিশেষ নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনা হবে। তারেক রহমানের আগমন ও চলাচলের প্রতিটি ধাপে থাকবে নির্ধারিত নিরাপত্তা বেষ্টনী। ঢাকা মহানগর এলাকায় বাড়ানো হবে টহল ও নজরদারি। তিনি দেশে ফিরে গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে অবস্থান করবেন, যেখানে ইতোমধ্যে নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন ও সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।
সূত্র অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের লন্ডন-ঢাকা রুটের একটি নির্ধারিত ফ্লাইটে ভিআইপি ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে কেবিন ক্রু পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি নিয়মিত ভেটিং ও নিরাপত্তা প্রটোকলের অংশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে ঢাকায় বড় পরিসরের জনসমাগম হতে পারে—এমন সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। রাজধানীর বাইরে থেকে আগতদের জন্যও সময় ও স্থান ব্যবস্থাপনার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষের চলাচলে অযথা ভোগান্তি না হয়।
নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো প্রক্রিয়াটি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল রাখতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক