জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে প্রশাসন-ইসির সর্বাত্মক প্রস্তুতি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে প্রশাসন-ইসির সর্বাত্মক প্রস্তুতি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 3, 2026 ইং
জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে প্রশাসন-ইসির সর্বাত্মক প্রস্তুতি ছবির ক্যাপশন:
ad728

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে চূড়ান্ত প্রস্তুতির কাউন্টডাউন। হাতে সময় আছে আর মাত্র এক মাস ১১ দিন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার এই নির্বাচন ঘিরে সারা দেশে এখন চলছে ব্যস্ততা ও তোড়জোড়। প্রার্থী বাছাই থেকে শুরু করে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা প্রস্তুতিতে রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটি অংশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

একদিকে প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠে নামছেন, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও প্রশাসন একটি উৎসবমুখর, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চালাচ্ছে। এরই মধ্যে ৩০০ আসনে সংসদ সদস্য পদে লড়তে ২ হাজার ৫৮২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, যা একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তবে মাঠ পর্যায়ে কিছু গুজব ও সংশয় ছড়ালেও সরকার ও প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে বারবার জানানো হচ্ছে—নির্বাচন নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই। তা সত্ত্বেও জনমনে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—সঠিক সময়ে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে তো?

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই সংশয়ের বাস্তব কোনো ভিত্তি নেই। প্রধান উপদেষ্টার উপপ্রেস সচিব মুহাম্মাদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, দেশের ৮০ শতাংশের বেশি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। উৎসবমুখর পরিবেশে মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে এবং মানুষ ভোটের জন্য মুখিয়ে আছে। তাঁর মতে, নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ এখন একেবারেই অমূলক।

সচিবালয় ও মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাঁরা এখন পুরোপুরি ‘নির্বাচন মুডে’ কাজ করছেন। রাজনৈতিক অস্থিরতা বা গুজব যেন প্রস্তুতিতে বিঘ্ন ঘটাতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি চলছে।

নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীতে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন পদক্ষেপ। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে এবার প্রথমবারের মতো লটারির মাধ্যমে ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার, ৫২৭ থানার ওসি এবং ১৬৬ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ জানান, এই পদ্ধতি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেছে। কেউ গাফিলতি বা পক্ষপাতিত্ব করলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সদর দপ্তর বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নিয়েছে। পুলিশের জন্য মারণাস্ত্রের ব্যবহার কমিয়ে আনা এবং টিয়ার গ্যাস, জলকামানসহ নন-লেথাল সরঞ্জাম ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান, পুলিশের নির্বাচন প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে।

মাঠ পর্যায়েও একই চিত্র। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ একযোগে প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। ভোটারদের আস্থা ফেরাতে জনবান্ধব পুলিশিং নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও আনসার বাহিনীর সমন্বয়ে একটি মাল্টিলেয়ার সিকিউরিটি প্ল্যান তৈরি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দুর্গম ভোটকেন্দ্রের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব মোকাবেলায় পুলিশের সাইবার ইউনিট ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সক্রিয় রাখা হয়েছে। ডিবি ও এসবিকে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এবারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জনগণের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনা। তবে লটারিতে পোস্টিং, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও পুলিশের মনস্তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণের মতো উদ্যোগ ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, নির্বাচনে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব বরদাশত করা হবে না।

সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটি অঙ্গ এখন সক্রিয়। প্রস্তুতির ব্যাপকতা ও প্রার্থীদের অংশগ্রহণ সংখ্যা বলছে—দেশ ধীরে ধীরে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
পাবনায় ‘কিলার জাহিদ’ গ্রেপ্তার, উদ্ধার অস্ত্র ও গোলাবারুদ

পাবনায় ‘কিলার জাহিদ’ গ্রেপ্তার, উদ্ধার অস্ত্র ও গোলাবারুদ