জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. শফিকুর রহমানের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অস্ত্রধারী দেহরক্ষী (গানম্যান) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। একই সঙ্গে তার বাসভবনের নিরাপত্তায় পোশাকধারী সশস্ত্র পুলিশ সদস্য মোতায়েন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সদর দপ্তরকে নির্দেশ দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রার নিরাপত্তা ঝুঁকি বা সম্ভাব্য হুমকি বিদ্যমান রয়েছে। সে কারণে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অস্ত্রধারী গানম্যান নিয়োগ এবং বাসভবনে পোশাকধারী সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এর আগে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর ডা. শফিকুর রহমানের জন্য সার্বক্ষণিক গানম্যান এবং বাসভবনের নিরাপত্তার জন্য সশস্ত্র পুলিশ সদস্য চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়। জামায়াতে ইসলামীর অফিস সেক্রেটারি আ ফ ম আবদুস সাত্তার দলের পক্ষ থেকে ওই আবেদন জমা দেন।
আবেদনটি যাচাই-বাছাই শেষে নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় সরকার এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর আমিরসহ মোট চারজন রাজনৈতিক নেতাকে গানম্যান দেওয়া হলো। এর আগে চরমোনাই পীর ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি এবং বিএনপি নেতা মাসুদ অরুণকে অস্ত্রধারী দেহরক্ষী দেওয়া হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের নিরাপত্তা ইস্যুতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন বাড়তে থাকে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রায় ২০ জন রাজনীতিবিদ অস্ত্রের লাইসেন্স ও সশস্ত্র দেহরক্ষী চেয়ে আবেদন করেছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তা ব্যবস্থার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে গত ১৪ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের অনুকূলে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ও রিটেইনার নিয়োগ নীতিমালা–২০২৫’ জারি করে। জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়।
নীতিমালা জারির পর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিরাপত্তা সংক্রান্ত আবেদন বাড়ছে এবং যাচাই শেষে পর্যায়ক্রমে এসব আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক