ইসলামপন্থি ভোট বিভাজনের শঙ্কা, চাপে জামায়াত জোট The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ইসলামপন্থি ভোট বিভাজনের শঙ্কা, চাপে জামায়াত জোট

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 18, 2026 ইং
ইসলামপন্থি ভোট বিভাজনের শঙ্কা, চাপে জামায়াত জোট ছবির ক্যাপশন:
ad728

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের রাজনীতিতে হঠাৎ করেই নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত মিলছে। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে’ চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শেষ মুহূর্তে যুক্ত না থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ইসলামপন্থি দলগুলোর সম্ভাব্য বৃহত্তর ঐক্যে বড় ধাক্কা লেগেছে। ফলে যে ‘এক বাক্স নীতি’ বা সম্মিলিত ভোটের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত ভেস্তে গেছে।

দীর্ঘ আলোচনা ও দরকষাকষির পরও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোটে যোগ না দিয়ে ২৬৮টি আসনে এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে। এতে করে শুধু জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট নয়, সামগ্রিক ইসলামপন্থি রাজনীতির ভোটের সমীকরণই বদলে যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনী মাঠে একাধিক দলের কৌশল নতুন করে সাজাতে বাধ্য করবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শামছুল আলম বলেন, ইসলামী আন্দোলনের সিদ্ধান্ত দেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর মতে, এটি আদর্শিক ও কৌশলগত—দুই দিক থেকেই ব্যাখ্যা করা যায়। তবে বড় বাস্তবতা হলো, ইসলামপন্থি রাজনৈতিক শিবিরের ঐক্যে এটি একটি দৃশ্যমান ফাটল।

তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন এখন নিজেদের আর ছোট দল মনে করছে না। সাম্প্রতিক স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে পাওয়া ভোটের ভিত্তিতে তারা নিজেদের ‘তৃতীয় শক্তি’ বা কিংমেকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে গেলে তাদের স্বকীয়তা ও হাতপাখা প্রতীকের গুরুত্ব ক্ষুণ্ন হতে পারে—এমন ভাবনাও তাদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামপন্থি ভোট বিভাজনের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হতে পারে বিএনপি। ধারণা করা হয়, দেশে ১৫–২০ শতাংশ ভোট ধর্মীয় বা ডানপন্থি দলগুলোর অনুকূলে থাকে। জামায়াত জোট ও ইসলামী আন্দোলন আলাদাভাবে নির্বাচন করলে এই ভোট ভাগ হয়ে যাবে, ফলে তাদের এককভাবে আসন জয়ের সম্ভাবনা কমবে।

জামায়াত নেতৃত্বাধীন এই নির্বাচনী ঐক্যে শুরুতে ইসলামী আন্দোলনসহ আটটি দল যুগপৎ আন্দোলনে যুক্ত ছিল। পরবর্তীতে এলডিপি, এনসিপি ও এবি পার্টি যোগ দিলে জোটের সংখ্যা দাঁড়ায় ১১-তে। তবে ইসলামী আন্দোলন সরে দাঁড়ানোয় বর্তমানে জোটে রয়েছে ১০টি দল।

জোটের দায়িত্বশীল নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসলামী আন্দোলনের সরে দাঁড়ানোর পেছনে দুটি মূল কারণ রয়েছে—আসন বণ্টন নিয়ে অসন্তোষ এবং আদর্শিক মতভেদ। ইসলামী আন্দোলন শুরুতে ১০০–১২০ আসনে নির্বাচন করতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত অন্তত ৫০টি আসনের দাবি তোলে। জামায়াত ৪৫টির বেশি আসনে ছাড় দিতে রাজি না হওয়ায় সমঝোতা হয়নি। পাশাপাশি জামায়াতের শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন না করার ঘোষণাকেও আদর্শিক সংঘাতের বড় কারণ হিসেবে দেখছে ইসলামী আন্দোলন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ইসলামী আন্দোলন না থাকলেও ফাঁকা রাখা আসনগুলো সমঝোতার ভিত্তিতেই বণ্টন হবে। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিকভাবে সবাই একসঙ্গে নির্বাচন করতে না পারা নিজেদের ব্যর্থতা হিসেবেই দেখতে হবে।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব যুবায়ের জানিয়েছেন, ইসলামী আন্দোলনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করবে জামায়াত। তবে বাস্তবতা হলো—ইসলামপন্থি ঐক্যের যে ‘সোনালি সুযোগ’ তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত হাতছাড়া হয়ে গেছে। এখন নির্বাচনী মাঠে ইসলামপন্থি রাজনীতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে ভোটারদের প্রতিক্রিয়া ও প্রচারণার গতিপথের ওপর।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
আগাম ভোটের পথে জাপান, সংসদ ভেঙে দিলেন তাকাইচি

আগাম ভোটের পথে জাপান, সংসদ ভেঙে দিলেন তাকাইচি