দেশে উগ্রবাদের উত্থান এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় বিএনপিতেই এখন দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার সুযোগ দেখছেন বলে জানিয়েছেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের একসময়ের সংসদ সদস্য আবু সাইয়িদ। সেই যুক্তিতেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দিয়েছেন।
বুধবার বিকেলে ঢাকার গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন আবু সাইয়িদ। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, এর আগের দিন মঙ্গলবার তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
বিএনপিতে যোগদানের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আবু সাইয়িদ সাংবাদিকদের বলেন, দেশে চারদিকে যেভাবে উগ্রবাদের বিস্তার ঘটছে, তা একজন দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে তাকে উদ্বিগ্ন করেছে। তাঁর ভাষায়, “এই পরিস্থিতিতে আমার মনে হয়েছে, এখন বিএনপিই একমাত্র দল, যাকে সামনে রেখে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। সে কারণেই আমি বিএনপিতে যোগ দিয়েছি।”
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও আবু সাইয়িদের রাজনৈতিক অবস্থান একাধিকবার পরিবর্তিত হয়েছে। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে গণফোরামের মনোনয়নে নির্বাচন করেন। এবার সরাসরি বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হলেন তিনি।
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে পাবনা–১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন আবু সাইয়িদ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন এবং দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচনে থাকা বা না থাকার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।
পাবনা–১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন মো. শামসুর রহমান। একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মেহাম্মদ নাজিবুর রহমান, যিনি দলটির সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে।
রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে আবু সাইয়িদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। স্বাধীনতার পর গঠিত বাংলাদেশ সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৭৩ সালে পাবনা–১ আসন থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী মতিউর রহমান নিজামীকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের তথ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
তবে ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি নিজামীর কাছে পরাজিত হন। এক–এগারোর পর আওয়ামী লীগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন আবু সাইয়িদ। এরপর ২০১৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এবং ২০১৮ সালে গণফোরামের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করলেও জয় পাননি।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘ ও বহুমুখী রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে আবু সাইয়িদের বিএনপিতে যোগদান আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
কসমিক ডেস্ক