সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের মাঠ ও সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম এই জানাজায় অংশ নিতে আসা মানুষের ঢল সংসদ ভবন এলাকা ছাড়িয়ে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। পুরো এলাকা পরিণত হয় এক বিশাল জনসমুদ্রে।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিএনপি নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ শেষবারের মতো প্রিয় নেত্রীকে বিদায় জানাতে উপস্থিত হন। সংসদ ভবন, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এবং আশপাশের সড়কগুলোতে মানুষের ভিড়ে কার্যত অচল হয়ে পড়ে পুরো এলাকা। অনেককে চোখের জল ধরে রাখতে দেখা যায়, আবার অনেকে নীরবে প্রার্থনায় মগ্ন ছিলেন।
জানাজা শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘কারো কাছে যদি আমার মা বেগম খালেদা জিয়ার কোনো ঋণ থেকে থাকে, আমাকে জানাবেন। আমি অবশ্যই তা পরিশোধের ব্যবস্থা করব, ইনশাআল্লাহ।’
তিনি আরও বলেন, ‘একই সঙ্গে তাঁর কোনো কথা বা আচরণে যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, সে জন্য আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনারা দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন তাঁকে বেহেশত নসিব করেন।’
জানাজায় রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গও অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, তিন বাহিনীর প্রধান, প্রধান বিচারপতি, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরসহ সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টারাও জানাজায় শরিক হন।
এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, বিদেশি অতিথি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরাও এই জানাজায় অংশ নেন। রাজনৈতিক অঙ্গনের নেতাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। বিশিষ্ট নাগরিকদের অংশগ্রহণও ছিল চোখে পড়ার মতো।
জানাজায় নারীদের অংশগ্রহণের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়, যেখানে বিপুল সংখ্যক নারী দেশনেত্রীর রুহের মাগফিরাত কামনায় প্রার্থনায় অংশ নেন।
জানাজার আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্ম সবার সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্র, সংসদীয় শাসনব্যবস্থা ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় খালেদা জিয়ার অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
লাখো মানুষের দোয়া, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে শেষ বিদায় জানানো হলো দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও তিনবারের সাবেক সরকারপ্রধান দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। তাঁর এই মহাপ্রস্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গভীর ছাপ রেখে গেল।
কসমিক ডেস্ক