বাংলাদেশের গাড়ির বাজারে পাকিস্তানে সংযোজিত গাড়ি আমদানির উদ্যোগকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ‘এমজি জেডব্লিউ অটোমোবাইল পাকিস্তান’ ও বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। এর আওতায় চলতি বছর ১০০টি গাড়ি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী চার বছরে এই সংখ্যা ৫ হাজার ৮০০-তে উন্নীত করার প্রস্তাবও রয়েছে।
এই উদ্যোগকে দুই দেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সম্পর্কের উন্নয়নের অংশ হিসেবে দেখা হলেও বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া উচিত গাড়ির গুণগত মান, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, মূল্য এবং বিক্রয়োত্তর সেবা। কোনো নির্দিষ্ট দেশের গাড়ি বলে সেটিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিবর্তে প্রতিটি মডেলকে নির্ধারিত মানদণ্ডে যাচাই করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের আলোচনায় গাড়ির নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য, ক্র্যাশ-টেস্টের ফলাফল, এয়ারব্যাগ, অ্যান্টি-লক ব্রেকিং সিস্টেম, ইলেকট্রনিক স্ট্যাবিলিটি কন্ট্রোল, নির্গমন মানদণ্ড, ওয়ারেন্টি এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের মতো বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। পাশাপাশি খুচরা যন্ত্রাংশের সহজলভ্যতা, দক্ষ টেকনিশিয়ান এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব কি না, তাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
পাকিস্তানে সংযোজিত গাড়ির ক্ষেত্রে ‘মেড ইন পাকিস্তান’ পরিচয়ের পাশাপাশি গাড়ির প্রকৃত প্রযুক্তি, যন্ত্রাংশের উৎস ও আন্তর্জাতিক মান অনুসরণের বিষয়ও যাচাই করা জরুরি। কারণ কোনো গাড়ি পাকিস্তানে সংযোজিত হলেই তার সব প্রযুক্তি বা যন্ত্রাংশ পাকিস্তানি—এমন নয়।
বাংলাদেশ চাইলে এই উদ্যোগকে বৃহত্তর প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরির সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। ভারত, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নির্মাতাদের কাছ থেকেও প্রতিযোগিতামূলক প্রস্তাব নেওয়া যেতে পারে। এতে ক্রেতাদের সামনে বিকল্প বাড়ার পাশাপাশি দাম, মান ও সেবার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা তৈরি হবে।
একই সঙ্গে বিদেশি গাড়ি নির্মাতাদের বাংলাদেশে সংযোজন কারখানা স্থাপন, স্থানীয় যন্ত্রাংশ উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষ জনবল তৈরিতে উৎসাহিত করা যেতে পারে। এতে গাড়ি আমদানির সুযোগকে দেশের অটোমোবাইল শিল্প বিকাশের কৌশলের সঙ্গেও যুক্ত করা সম্ভব।
শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানি গাড়ি আমদানির প্রশ্নটি কোনো দেশের পক্ষে বা বিপক্ষে নয়। মূল বিষয় হওয়া উচিত বাংলাদেশি ক্রেতা কতটা নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী গাড়ি পাচ্ছেন। বাণিজ্যিক সম্পর্ক সুযোগ তৈরি করতে পারে, কিন্তু বাজারে কোন গাড়ি টিকে থাকবে—তা নির্ধারণ করবে গাড়ির মান, প্রতিযোগিতা এবং ক্রেতাদের আস্থা।
কসমিক ডেস্ক