দেশে ঢুকে বিয়ে, ফের কলকাতায়: হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড বাপ্পির বিস্ময়কর গতিবিধি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

দেশে ঢুকে বিয়ে, ফের কলকাতায়: হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড বাপ্পির বিস্ময়কর গতিবিধি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 10, 2026 ইং
দেশে ঢুকে বিয়ে, ফের কলকাতায়: হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড বাপ্পির বিস্ময়কর গতিবিধি ছবির ক্যাপশন:
ad728

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড হিসেবে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) চার্জশিটে নাম এসেছে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পির। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বাপ্পি বর্তমানে ভারতের কলকাতায় অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকেই হাদি হত্যার পুরো কিলিং মিশন পরিচালনা করেছেন।

ডিবির দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় বাপ্পি অবৈধ পথে ভারতে পালিয়ে যান। পরে গত বছরের সেপ্টেম্বরে তিনি আবারও অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন এবং মাদারীপুরের শিবচরে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিয়ের পর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে একই পথে ফের ভারতে চলে যান। এরপর কলকাতায় অবস্থান করেই হাদি হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে নির্দেশনা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ডিবির এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, হাদিকে গুলি করার পর শুটার ফয়সাল ও তার সহযোগী আলমগীরকে নিরাপদে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থাও করেন বাপ্পি। হত্যাকাণ্ডের চার্জশিটে ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হলেও বাপ্পিকে অন্যতম পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তবে বাপ্পিসহ ভারতে পলাতক অন্য আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, খুনিরা অবৈধ পথে ভারতে যাওয়ায় তাদের অবস্থানের বিষয়ে অফিসিয়াল তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ইন্টারপোলের সহায়তা চাওয়ার ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হয়েছে। আদালতের অনুমতি পেলে ইন্টারপোলের মাধ্যমে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ডিবি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাপ্পি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। রূপনগর ও পল্লবী এলাকায় তার প্রভাব ছিল ব্যাপক। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লার ছত্রচ্ছায়ায় থেকে তিনি অনিয়ম, দুর্নীতি, জবরদখল ও সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।

ডিবির তথ্য অনুযায়ী, ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত বাপ্পি কলকাতার রাজারহাটের ওয়েস্ট বেড়াবেড়ি মেঠোপাড়া এলাকার একটি ভবনের ফ্ল্যাটে অবস্থান করছিলেন। তার সঙ্গে সেখানে আরও কয়েকজন পলাতক আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা ছিলেন। তবে চার্জশিটে নাম প্রকাশের পর বাপ্পি সেখান থেকে সরে যান এবং তার বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত নয়।

হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা অবস্থায় তার মাথায় গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় মামলা হয়।

ডিবির দাখিল করা অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। যদিও হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতাদের সবাই এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
প্রতিহিংসা নয়, ঐক্যই লক্ষ্য: বিএনপি প্রার্থী কামরুল

প্রতিহিংসা নয়, ঐক্যই লক্ষ্য: বিএনপি প্রার্থী কামরুল