ফেলানী দিবসে সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে ভাসমান আলোকচিত্র প্রদর্শনী The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ফেলানী দিবসে সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে ভাসমান আলোকচিত্র প্রদর্শনী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 9, 2026 ইং
ফেলানী দিবসে সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে ভাসমান আলোকচিত্র প্রদর্শনী ছবির ক্যাপশন:
ad728

ফেলানী দিবস উপলক্ষে সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদ জানাতে রাজধানীতে শুরু হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী ভাসমান আলোকচিত্র প্রদর্শনী। আলোকচিত্রী পারভেজ আহমদ রনির একক এই প্রদর্শনীর শিরোনাম ‘বর্ডার দ্যাট ব্লিডস’। শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) রাজধানীর মহাখালীর কড়াইল বস্তি–সংলগ্ন লেকে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়।

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তে কিশোরী ফেলানী খাতুনকে গুলি করে হত্যা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। কাঁটাতারে ঝুলে থাকা তার মরদেহ প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে সীমান্তে দৃশ্যমান ছিল। এই নৃশংস ঘটনার এক যুগের বেশি সময় পার হলেও এখনো এর বিচার হয়নি। ফেলানীর স্মরণে প্রতিবছর ৭ জানুয়ারি ‘ফেলানী দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।

এই দিবসকে কেন্দ্র করে আয়োজন করা হয়েছে ‘বর্ডার দ্যাট ব্লিডস’ প্রদর্শনী। এতে আলোকচিত্রী পারভেজ আহমদ রনি তোলা সাতটি আলোকচিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে, যেগুলো বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ঘটে যাওয়া হত্যা ও মানবিক বিপর্যয়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। ছবিগুলো কড়াইল বস্তি–সংলগ্ন লেকের পানিতে ভাসমান ইনস্টলেশন হিসেবে স্থাপন করা হয়েছে, যা প্রদর্শনীটিকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা।

আলোকচিত্রী পারভেজ আহমদ রনি জানান, তিনি ২০১২ সাল থেকে সীমান্ত এলাকায় সংঘটিত সহিংসতা, সাধারণ মানুষের মৃত্যু এবং মানবিক সংকট নিয়ে কাজ করে আসছেন। তাঁর মতে, সীমান্তে নিহতদের বেশির ভাগই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ। তারা নিহত হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার পায় না এবং তাদের দুর্দশা নিয়ে খুব কম মানুষই কথা বলে।

প্রদর্শনীর স্থান নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সীমান্তের প্রান্তিক মানুষের মতোই কড়াইল বস্তির মানুষও অবহেলিত। সম্প্রতি আগুনে কড়াইল বস্তির অনেক ঘরবাড়ি পুড়ে গেলেও তাদের দুঃখ–কষ্টের দিকে খুব কম নজর দেওয়া হয়েছে। অথচ বস্তিটির পাশেই দেশের নীতিনির্ধারকদের আবাস। এই বৈপরীত্যই প্রদর্শনীর স্থান হিসেবে কড়াইল লেক বেছে নেওয়ার মূল কারণ।

পারভেজ আহমদ রনি বলেন, একটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের বাস্তবতা আরেকটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের সামনে তুলে ধরতেই এই আয়োজন। সীমান্তের রক্তাক্ত বাস্তবতা ও শহরের ভেতরের অবহেলিত মানুষের জীবন—এই দুই বাস্তবতাকে এক সুতোয় গাঁথার প্রয়াস হিসেবেই প্রদর্শনীটি করা হয়েছে।

তিনি জানান, যত দিন পর্যন্ত ছবিগুলো নষ্ট না হবে, তত দিন এই ভাসমান আলোকচিত্র প্রদর্শনী চলবে এবং এটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

এর আগেও ফেলানী খাতুনের বাড়ির উঠান এবং রাজধানীর গুলশানে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ পার্কে একই ধরনের প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিলেন বলে জানান এই আলোকচিত্রী। তাঁর মতে, শিল্প ও আলোকচিত্রের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানোর এই ভাষা মানুষের বিবেককে নাড়া দিতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
শীতে ঢাবি ক্যাম্পাসের বিড়ালদের জন্য ডাকসুর মানবিক উদ্যোগ

শীতে ঢাবি ক্যাম্পাসের বিড়ালদের জন্য ডাকসুর মানবিক উদ্যোগ