নির্বাচনী হলফনামায় পার্থর আয়-সম্পদের পূর্ণ চিত্র The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

নির্বাচনী হলফনামায় পার্থর আয়-সম্পদের পূর্ণ চিত্র

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 4, 2026 ইং
নির্বাচনী হলফনামায় পার্থর আয়-সম্পদের পূর্ণ চিত্র ছবির ক্যাপশন:
ad728

ভোলা-১ (সদর) আসনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) প্রার্থী ও দলটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থর আয় ও সম্পদ গত সাত বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৮ সালের তুলনায় তাঁর বার্ষিক আয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে এবং মোট সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি।

হলফনামা অনুযায়ী, বর্তমানে পার্থর বার্ষিক আয় ৪১ লাখ ৪১ হাজার ৪৫২ টাকা। এর মধ্যে ব্যবসা খাত থেকে আয় সাত লাখ ৫২ হাজার ১০৭ টাকা এবং আইন পেশা ও শিক্ষকতা থেকে আয় ৩৩ লাখ ৮৯ হাজার ৩৪৫ টাকা। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে দুই কোটি ২২ লাখ ৩৩ হাজার টাকা।

হলফনামায় প্রথমবারের মতো তাঁর স্ত্রীর নামে ১০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা সম্পদের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। আগের হলফনামাগুলোতে স্ত্রীর নামে কোনো সম্পদের তথ্য ছিল না।

অস্থাবর সম্পদের হিসাবে পার্থ নগদ অর্থ দেখিয়েছেন ৭৬ লাখ ৪৯ হাজার ৮৯ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ৭১ লাখ ১৩ হাজার ৫৪৮ টাকা। এ ছাড়া বন্ড, ঋণপত্র এবং শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয়—এমন বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ রয়েছে ১৭ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। তাঁর ব্যবহৃত মোটরযানের মূল্য দেখানো হয়েছে ৫৫ লাখ টাকা এবং স্বর্ণের পরিমাণ ১০০ তোলা।

ব্যাংক হিসাবে তাঁর নিজ নামে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে রয়েছে আট লাখ ৫৪ হাজার ৮৫৬ টাকা। ব্রিটিশ স্কুল অব ‘ল’ নামের হিসাবে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকে জমা রয়েছে এক লাখ ৫৮ হাজার ১৯২ টাকা। ‘আন্দালিব রহমান ফার্ম অ্যান্ড ফিশারিজ’ নামে ব্র্যাক ব্যাংকে রয়েছে ৩৭ লাখ ৫০০ টাকা এবং নিজ নামে ব্র্যাক ব্যাংকের দুটি হিসাবে রয়েছে মোট ২৫ লাখ টাকা।

হলফনামায় তিনি দুটি আগ্নেয়াস্ত্রের তথ্যও উল্লেখ করেছেন—একটি এনপিবি রিভলবার এবং একটি .২২ বোর রাইফেল। অস্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে দুই কোটি ২২ লাখ ৩৩ হাজার ১২ টাকা।

স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে তাঁর কোনো কৃষিজমি নেই। অকৃষি জমির মধ্যে নিজ নামে রয়েছে ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং যৌথ মালিকানায় ১৩ দশমিক ২৯ শতাংশ জমি। ঢাকায় যৌথ মালিকানায় তাঁর একটি তিনতলা দালান ও একটি তিনতলা বাড়ি রয়েছে।

সর্বশেষ ২০২৫–২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে পার্থ তাঁর আয় দেখিয়েছেন ৪১ লাখ ৪১ হাজার ৪৫২ টাকা এবং সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন দুই কোটি ২৩ লাখ ৪১ হাজার ৫০ টাকা। ওই রিটার্ন অনুযায়ী তিনি আয়কর দিয়েছেন আট লাখ সাত হাজার ৪৩৬ টাকা। তাঁর বড় মেয়ে মাহাম সানজিদা রহমানের নামে ব্যাংকে জমা রয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ১৯৩ টাকা।

এর আগে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময় দাখিল করা হলফনামায় পার্থ তাঁর বার্ষিক আয় দেখিয়েছিলেন ২১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৭০ টাকা। তখন তাঁর সম্পদের মধ্যে ছিল নগদ ৩১ লাখ এক হাজার ১৯৬ টাকা, ব্যাংকে জমা ৪৩ লাখ ২০ হাজার ৪৫৫ টাকা, বিভিন্ন শেয়ার ও বন্ড ১৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, ৬০ লাখ ৪৫ হাজার ৪৫ টাকা মূল্যের একটি গাড়ি এবং এক লাখ ২৪ হাজার ৩৭৫ টাকা মূল্যের পুরোনো আসবাবপত্র।

আরও আগে, ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ আসনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময় তাঁর হলফনামায় ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছিল পাঁচ লাখ ৮৩ হাজার ৩৫০ টাকা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বিপিএলে প্রথম ১০ উইকেটের জয়, ম্যাচ-সেরা রসিংটন

বিপিএলে প্রথম ১০ উইকেটের জয়, ম্যাচ-সেরা রসিংটন