চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে একটি ট্যাংক থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে ইয়ার্ডে একটি জাহাজে হাউসকিপিংয়ের কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক জানান, সীতাকুণ্ড থেকে ছয় শ্রমিককে হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক পাঁচজনকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর একজনকে হাসপাতালের ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।
ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে সেফটি টিম একটি ট্যাংক থেকে গ্যাস নির্গমনের বিষয়টি শনাক্ত করে। পরে সেফটি টিমের কয়েকজন সদস্য গ্যাস লিকের বিষয়টি পরীক্ষা করতে গেলে কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ ও আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ফেরদৌস স্টিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, প্রাথমিকভাবে তারা তিনজন শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পেয়েছিলেন। তবে পরে হাসপাতালে নেওয়া শ্রমিকদের মধ্যে আরো দুজনের মৃত্যু হয়। আহতের সঠিক সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে না পারলেও নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।
এদিকে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) উপমহাপরিদর্শক মাহবুবুল হাসান জানান, তারা ১০ জন শ্রমিক আহত হওয়ার খবর পেয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর ইয়ার্ডের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং ট্যাংক থেকে গ্যাস নির্গমনের কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষাক্ত গ্যাসের ধরন এবং কীভাবে তা ছড়িয়ে পড়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্যাস শনাক্তকরণ, পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম এবং ঝুঁকিপূর্ণ ট্যাংকে প্রবেশের আগে যথাযথ পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। সীতাকুণ্ডের এ ঘটনায় নিহত ও আহত শ্রমিকদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী তদন্তে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হতে পারে।
কসমিক ডেস্ক