চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য জেলায় ভূমিধসের উচ্চ সতর্কতা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য জেলায় ভূমিধসের উচ্চ সতর্কতা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 9, 2026 ইং
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য জেলায় ভূমিধসের উচ্চ সতর্কতা ছবির ক্যাপশন:

টানা ভারি বর্ষণ এবং আগামী কয়েক দিনের অতিভারি বৃষ্টির পূর্বাভাসের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় ভূমিধসের বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সতর্কতার আওতায় রয়েছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলা।

বুধবার (৯ জুলাই) রাতে আবহাওয়া অধিদপ্তর এ বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করে। এতে বলা হয়, ভারতের উত্তর-পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ ও আশপাশের এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় প্রবল মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত এসব এলাকায় ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের গাণিতিক মডেলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, তিন দিনে কোথাও কোথাও ২০০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। ইতোমধ্যে কয়েক দিনের টানা বর্ষণে পাহাড়ি এলাকার মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় ভূমিধসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বিশেষ সতর্কবার্তায় কক্সবাজার জেলার টেকনাফ, উখিয়া ও কক্সবাজার সদর উপজেলাকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পশ্চিম ষোলশহর, শুলকবহর, উত্তর পাহাড়তলী ও লালখান বাজার এলাকার পাহাড়ঘেঁষা বসতিগুলোকেও ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রাখা হয়েছে।

পার্বত্য অঞ্চলের মধ্যে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি, লামা ও বান্দরবান সদর উপজেলা, পাশাপাশি রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া ও ভূপ্রাকৃতিক কেন্দ্র, চট্টগ্রামের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রহমান খান বলেন, সপ্তাহের শুরু থেকেই ভারি বৃষ্টির কারণে ভূমিধসের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করা হচ্ছিল। সর্বশেষ গাণিতিক মডেলের তথ্য বিশ্লেষণ করে বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কম মনে হলেও আগামী কয়েক দিনে আবারও ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে পাহাড়ের মাটি অতিরিক্ত পানিতে স্যাঁতসেঁতে হয়ে পড়ায় সামান্য বৃষ্টিতেও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটতে পারে।

এদিকে আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, পতেঙ্গা আবহাওয়া কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ১৭১.৬ মিলিমিটার এবং দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১৯২.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে নগরীর আমবাগান আবহাওয়া কেন্দ্রে সকাল ৯টা পর্যন্ত ৩৩৬ মিলিমিটার এবং দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২১৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

সকালের দিকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও দুপুরের পর আবারও চট্টগ্রাম নগরীতে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। ফলে জলাবদ্ধতা এবং পাহাড়ধসের আশঙ্কা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ের পাদদেশে ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে প্রয়োজন হলে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনে পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণ না করার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা নাকচ করলেন শেখ হাসিনা

রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা নাকচ করলেন শেখ হাসিনা