ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীরা ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথ অতিক্রম করতে গিয়ে আবারও প্রাণহানির শিকার হয়েছেন। লিবিয়ার পাঁচজন ও গ্রিসের তিনজন—মোট ৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির কাছে কাসর আল-আখিয়ার উপকূলে স্থানীয় বাসিন্দারা শনিবার পাঁচটি মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশ এগুলো উদ্ধার করে। কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, মরদেহগুলোর মধ্যে দুজন নারী ছিলেন। স্থানীয়রা একটি শিশুর মরদেহও দেখতে পান, যা ঢেউয়ে আবার সমুদ্রে চলে যায়।
এর কয়েক সপ্তাহ আগে পশ্চিম লিবিয়ার জুয়ারা উপকূলে একটি রাবারের নৌকা ডুবে অন্তত ৫৩ জন অভিবাসী নিহত বা নিখোঁজ হন বলে জানিয়েছিল ইন্টারন্যাশনাল অরগানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন।
অন্যদিকে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছে একটি কাঠের নৌকা ডুবে তিনজনের মৃত্যু হয়। উদ্ধার করা হয় অন্তত ২০ জনকে, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই মিসর ও সুদানের নাগরিক। তাদের মধ্যে চারজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। গ্রিক উপকূলরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযানের সময় যাত্রীরা নৌকা থেকে ওঠার চেষ্টা করলে নৌকাটি উল্টে যায়। নিখোঁজদের খুঁজতে টহল নৌকা, বিমান এবং ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্সের জাহাজ অভিযান চালাচ্ছে।
প্রতি বছর হাজারো মানুষ লিবিয়া থেকে ইউরোপে পৌঁছানোর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথ বেছে নেয়। ২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর লিবিয়া অভিবাসীদের জন্য প্রধান ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক সংঘাত, দারিদ্র্য এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে এই পথটি অত্যন্ত বিপজ্জনক।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ইউরোপে আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে ১৬,৭৭০ জনের বেশি মানুষ ক্রিটে পৌঁছেছেন। একই বছরে গ্রিসের জলসীমায় ১০৭ জন নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। সংস্থা সতর্ক করেছে, লিবিয়ায় অবস্থানরত অভিবাসীরা হত্যা, নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার ঝুঁকিতে রয়েছেন। মানবাধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেখানে অভিবাসী ফেরত পাঠানো বন্ধ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, লিবিয়া ও গ্রিসের সমুদ্রপথে ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসী যাত্রার ফলে প্রতিবছর অসংখ্য প্রাণহানি ঘটে। নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু অভিবাসন ব্যবস্থার অভাবের কারণে শরণার্থীদের ঝুঁকিপূর্ণ নৌযাত্রা অব্যাহত থাকে। অভিবাসীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপে পৌঁছাতে চেষ্টা করছেন, যা মানবিক ও রাজনৈতিক সংকট তৈরি করছে।
ইউরোপীয় দেশগুলো, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় উদ্ধার অভিযান চললেও প্রতিনিয়ত সমুদ্রপথে বিপদগ্রস্তদের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। বিশেষত লিবিয়া ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মানবপাচার ও নৌদুর্ঘটনার কারণে প্রাণহানির হার উদ্বেগজনক। এই ঘটনার মাধ্যমে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা, শরণার্থী সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক