এনইআইআর চালু হলে দামী স্মার্টফোনের দাম কমবে: এমআইওবি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

এনইআইআর চালু হলে দামী স্মার্টফোনের দাম কমবে: এমআইওবি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 6, 2026 ইং
এনইআইআর চালু হলে দামী স্মার্টফোনের দাম কমবে: এমআইওবি ছবির ক্যাপশন:
ad728

ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) কার্যকর হলে দেশে উচ্চমূল্যের স্মার্টফোনের বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে দাবি করেছে মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমআইওবি)। সংগঠনটির মতে, এনইআইআর বাস্তবায়নের ফলে ৩০ হাজার টাকার বেশি দামের স্মার্টফোনের স্থানীয় উৎপাদন বাড়বে এবং এর ধারাবাহিক প্রভাবে এসব ফোনের দাম ধীরে ধীরে কমে আসবে।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় ‘এনইআইআর-এর হাত ধরে শুরু হোক নিরাপদ বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি তুলে ধরেন এমআইওবির নেতারা।

সংগঠনটি জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশে উৎপাদিত হাই-এন্ড বা ৩০ হাজার টাকার বেশি দামের স্মার্টফোনের সংখ্যা খুবই সীমিত। এনইআইআর কার্যকর হলে অবৈধ ও গ্রে মার্কেটের মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। ফলে বৈধভাবে বেশি দামের স্মার্টফোন আমদানি ও দেশে উৎপাদনের আগ্রহ বাড়বে।

এমআইওবির দাবি, বড় পরিসরে উচ্চমূল্যের স্মার্টফোন উৎপাদন শুরু হলে স্বাভাবিকভাবেই উৎপাদন ব্যয় কমে আসবে। এতে স্থানীয়ভাবে তৈরি স্মার্টফোনের বিক্রি বাড়বে এবং ভোক্তারা তুলনামূলক কম দামে উন্নতমানের ফোন কিনতে পারবেন।

সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এমআইওবির নির্বাহী পরিচালক ও শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী। তিনি জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে স্মার্টফোন বাজারের আকার দাঁড়াবে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারে। সঠিক নীতিগত সহায়তা ও বাজার শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ সে সময় বছরে ৫ থেকে ৬ হাজার কোটি টাকার স্মার্টফোন রপ্তানি করতে পারবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে বৈধ স্মার্টফোন বাজারের আকার বছরে প্রায় ৯ থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার। ২০২২ সালের আগে এই বাজার ১২ থেকে ১৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। তবে এলসি জটিলতা ও ডলার বিনিময় হারের অসামঞ্জস্যের কারণে ২০২২ ও ২০২৩ সালে বাজার সংকুচিত হয়। ২০২৪ সাল থেকে বাজার ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।

এমআইওবির সভাপতি জাকারিয়া শহীদ বলেন, এনইআইআর বাস্তবায়ন মোবাইল ফোন শিল্পে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও ভোক্তা সুরক্ষা নিশ্চিত করার একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এর মাধ্যমে অবৈধ ও নকল মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে এবং বৈধ ব্যবসার জন্য ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হবে।

তিনি আরও বলেন, এনইআইআর বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে বিটিআরসি কার্যালয়ে ভাঙচুরসহ যেকোনো সহিংস ও আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড এমআইওবি সমর্থন করে না। নীতিগত ধারাবাহিকতা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বজায় থাকলে স্মার্টফোন শিল্প ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে দেশে ১৮টি মোবাইল ফোন সংযোজন ও উৎপাদন কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় দেশি ও বিদেশি মিলিয়ে তিন হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ হয়েছে। এই খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যার একটি বড় অংশ নারী শ্রমিক।

এমআইওবির তথ্য অনুযায়ী, অবৈধ বা গ্রে মার্কেটের কারণে সরকার প্রতিবছর দুই হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব হারাচ্ছে। গ্রে মার্কেটের আকার প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা, যা স্থানীয় শিল্পের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ উৎপাদন সক্ষমতাকে অব্যবহৃত রাখছে। এনইআইআর পুরোপুরি কার্যকর হলে এই অবৈধ বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে এবং সরকার উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আদায় করতে পারবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
৩–৫ কোটি ব্যারেল তেল যুক্তরাষ্ট্রে দিচ্ছে ভেনেজুয়েলা

৩–৫ কোটি ব্যারেল তেল যুক্তরাষ্ট্রে দিচ্ছে ভেনেজুয়েলা