জন্মনিয়ন্ত্রণ উপকরণ সংকটে দেশে পরিবার পরিকল্পনা সেবা ব্যাহত The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

জন্মনিয়ন্ত্রণ উপকরণ সংকটে দেশে পরিবার পরিকল্পনা সেবা ব্যাহত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 18, 2026 ইং
জন্মনিয়ন্ত্রণ উপকরণ সংকটে দেশে পরিবার পরিকল্পনা সেবা ব্যাহত ছবির ক্যাপশন:

দেশে সরকারি খাতে বিতরণ করা জন্মনিয়ন্ত্রণ উপকরণে দীর্ঘস্থায়ী সংকট দেখা দিয়েছে, যা দেড় বছর ধরে চলমান রয়েছে। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের অধিকাংশ উপজেলায় কনডম, ওরাল পিল, ইনজেক্টেবল, ইমপ্লান্ট এবং আইইউডি (IUD) সহ গুরুত্বপূর্ণ জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর মজুত প্রায় শেষ হয়ে গেছে বা অতি নিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ৩৭৮টি উপজেলায় কনডম নেই। একইভাবে ৩৬৭টি উপজেলায় ওরাল পিলের মজুত শেষ হয়ে গেছে। জরুরি জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি (ইসিপি) নেই ৪১৮টি উপজেলায়। দীর্ঘমেয়াদি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিতে ব্যবহৃত ইমপ্লান্ট নেই ৩১১টি উপজেলায় এবং ১০ বছর কার্যকর আইইউডি নেই ৩৯৭টি উপজেলায়। পাশাপাশি ইনজেক্টেবল জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর মজুত শেষ হয়ে গেছে ৪৭৭টি উপজেলায়।

শুধু জন্মনিয়ন্ত্রণ উপকরণই নয়, মাতৃস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ যেমন মিসোপ্রোস্টল, অক্সিটোসিন, আয়রন-ফলিক এসিড এবং ম্যাগনেসিয়াম সালফেটের মতো প্রয়োজনীয় ওষুধও অধিকাংশ উপজেলায় মজুতশূন্য হয়ে পড়েছে। ফলে প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা ও মাতৃস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সক্ষম দম্পতিদের মধ্যে ৩৭ শতাংশ সরকারি খাত থেকে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী পান। বাকি ৩ শতাংশ পান এনজিওদের মাধ্যমে এবং প্রায় ৬০ শতাংশ বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরশীল। সরকারি সরবরাহ কমে যাওয়ায় সামগ্রিক সেবায় ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে।

সরবরাহ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ইনজেক্টেবল জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সরবরাহ ১১ লাখ ৪০ হাজার থেকে কমে ৫ লাখে নেমে এসেছে, যা প্রায় ৫৬ শতাংশ হ্রাস। ওরাল পিলের সরবরাহ ৮৮ লাখ ৯০ হাজার থেকে কমে ১৮ লাখ ৯০ হাজারে দাঁড়িয়েছে, যা প্রায় ৭৯ শতাংশ কম। দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতির ক্ষেত্রে আরও ভয়াবহ চিত্র দেখা যায়। নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের পিল সরবরাহ ২৩ লাখের বেশি থেকে কমে ৪৩ হাজারেরও নিচে নেমেছে, যা প্রায় ৯৮ শতাংশ পতন। ইমপ্লান্ট সরবরাহ ২৯ লাখের বেশি থেকে কমে মাত্র ৯ হাজারের নিচে নেমেছে, প্রায় ৯৭ শতাংশ হ্রাস। আইইউডি সরবরাহও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৬৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

এই পরিস্থিতির পেছনে অর্থ সংকট, ক্রয় ও সরবরাহ ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা এবং বাজেট বাস্তবায়নে জটিলতাকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মাঠ পর্যায় থেকে নিয়মিত চাহিদা দেওয়া হলেও সময়মতো অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় প্রয়োজনীয় ক্রয় কার্যক্রম এগোতে পারেনি।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. জিন্নাত রেহানা জানিয়েছেন, ২০২৩ সালে বড় ধরনের ক্রয়ের অনুমোদন না পাওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকট তৈরি হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জুনে অপারেশন প্ল্যান (ওপি) মেয়াদোত্তীর্ণ হলে সংকট আরও তীব্র হয়। তবে সরকার নতুন বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে এবং এ খাতে উল্লেখযোগ্য অর্থ সংস্থান করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনা, মাতৃস্বাস্থ্য এবং পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সরকারি সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরায় স্বাভাবিক না হলে গ্রামীণ ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মায়ের কোলেই ফিরলেন হাদি: উপাচার্য

মায়ের কোলেই ফিরলেন হাদি: উপাচার্য