বাংলাদেশ চলচ্চিত্র অঙ্গনে আলোচিত এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি। সংগঠনের শৃঙ্খলা, ঐক্য ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে নির্মাতা বদিউল আলম খোকন, মনজুরুল ইসলাম মেঘ এবং রিয়াজুল রিজুকে পরিচালক সমিতির সদস্যপদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শেষে সদস্যরা বহিষ্কারের পক্ষে মত দেন। পরে সিদ্ধান্তটি আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়। পরিচালক সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য ও নির্মাতা গাজী মাহবুব গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গাজী মাহবুব জানান, সংগঠনের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং পরিচালক সমিতির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগের ভিত্তিতে তিন পরিচালকের সদস্যপদ আজীবনের জন্য বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সমিতির মতে, অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ড সংগঠনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও ঐক্যের পরিপন্থী ছিল। সেই বিবেচনায় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে পরিচালক সমিতির নির্বাচন বাতিলের দাবিতে আদালতে মামলা করেন নির্মাতা বদিউল আলম খোকন। ওই মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছিল প্রয়াত নির্মাতা আব্দুল লতিফ বাচ্চুকে। এই আইনি পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে পরিচালক সমিতির ভেতরে ব্যাপক অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। নির্বাচিত কমিটির বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হওয়াকে সংগঠনের স্বার্থবিরোধী পদক্ষেপ হিসেবে দেখেন সমিতির অনেক সদস্য। পরবর্তীতে সেই ঘটনার ধারাবাহিকতায় বদিউল আলম খোকনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এদিকে, ওই মামলার প্রেক্ষাপটে নির্মাতা মনজুরুল ইসলাম মেঘ এবং রিয়াজুল রিজুর বিরুদ্ধেও অভিযোগ ওঠে। সমিতির দাবি, তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচালক সমিতির বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক প্রচারণায় যুক্ত ছিলেন। অভিযোগগুলো বার্ষিক সাধারণ সভায় আলোচনায় আসে এবং বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় তা বিবেচনায় নেওয়া হয়।
বদিউল আলম খোকন বাংলাদেশের বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের পরিচিত একজন নির্মাতা। তিনি শাকিব খান অভিনীত ‘প্রিয়া আমার প্রিয়া’ এবং **‘নাম্বার ওয়ান শাকিব খান’**সহ একাধিক ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দেশের বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র নির্মাণে সক্রিয় ছিলেন এবং তার পরিচালিত বেশ কয়েকটি সিনেমা দর্শকমহলে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
অন্যদিকে, রিয়াজুল রিজু তার ‘বাপজানের বায়োস্কোপ’ চলচ্চিত্রের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ দেশ-বিদেশের একাধিক সম্মাননা লাভ করেছেন। চলচ্চিত্র নির্মাণে তার কাজ সমালোচক ও দর্শকদের কাছেও প্রশংসিত হয়েছে। মনজুরুল ইসলাম মেঘও চলচ্চিত্র অঙ্গনের পরিচিত নির্মাতাদের একজন।
পরিচালক সমিতির এই সিদ্ধান্ত চলচ্চিত্র অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সদস্যদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বহিষ্কারের বিষয়ে কী ধরনের সাংগঠনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে বা ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার কোনো সুযোগ থাকবে কি না, সে বিষয়ে সমিতির পক্ষ থেকে অতিরিক্ত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
এদিকে, আজীবন বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের বিষয়ে বদিউল আলম খোকন, মনজুরুল ইসলাম মেঘ এবং রিয়াজুল রিজুর কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ফলে অভিযোগ ও বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তাদের অবস্থান বা বক্তব্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির এই সিদ্ধান্ত চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংগঠনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হলেও, বহিষ্কৃত তিন নির্মাতার প্রতিক্রিয়া প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে আরও নতুন আলোচনা তৈরি হতে পারে।
কসমিক ডেস্ক