ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এর দাম কমানো হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য ১৫ টাকা হ্রাস করে ১ হাজার ৩৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার নতুন এ মূল্য ঘোষণা করা হয়।
দাম সমন্বয়ের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সংস্থাটি জানায়, সংশোধিত মূল্য এখন থেকেই কার্যকর হবে। ফলে নতুন ঘোষণার পর থেকে ভোক্তারা নির্ধারিত দামে এলপিজি ক্রয় করতে পারবেন।
এলপিজি বাংলাদেশের শহর ও গ্রামাঞ্চলে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত জ্বালানি। বিশেষ করে যেসব এলাকায় প্রাকৃতিক গ্যাস সংযোগ নেই, সেখানে রান্নার কাজে এলপিজি সিলিন্ডারই প্রধান বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাই প্রতি মাসে এলপিজির মূল্য সমন্বয় ভোক্তাদের ব্যয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
ফেব্রুয়ারি মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৫ টাকা কমানোয় ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পাবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পূর্ব নির্ধারিত দামের তুলনায় এই হ্রাস সীমিত হলেও নিয়মিত মূল্য সমন্বয়ের ধারাবাহিকতায় এটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিইআরসি প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য ও আমদানি ব্যয় বিবেচনায় এলপিজির দাম নির্ধারণ করে থাকে। আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দামের ওঠানামা, ডলার বিনিময় হার এবং পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয়—এসব উপাদান মূল্য নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। ফেব্রুয়ারি মাসের মূল্য ঘোষণায় এসব বিষয় পর্যালোচনা করেই নতুন হার নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
১২ কেজি সিলিন্ডার দেশের বাজারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত আকার। তাই এ সিলিন্ডারের মূল্য পরিবর্তন সাধারণ ভোক্তাদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। নতুন দামে ১২ কেজি সিলিন্ডার ১,৩৪১ টাকায় বিক্রি হবে। সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে এ মূল্য অনুসরণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ভোক্তাদের পক্ষ থেকে প্রায়ই এলপিজির মূল্য স্থিতিশীল রাখার দাবি জানানো হয়। কারণ ঘন ঘন মূল্য পরিবর্তনের ফলে পারিবারিক বাজেট পরিকল্পনায় চাপ সৃষ্টি হয়। যদিও মূল্য নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির প্রভাব থাকে, তবুও সামান্য মূল্য হ্রাস সাধারণ মানুষের জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিইআরসি জানায়, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোক্তাদের নির্ধারিত দামে এলপিজি ক্রয়ের বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ভবিষ্যতেও এলপিজির দামে সমন্বয় আসতে পারে। তবে তা নির্ভর করবে বৈশ্বিক বাজারদর, আমদানি ব্যয় এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক সূচকের ওপর।
নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ায় বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিপণন কোম্পানিগুলো আগের মতোই সরবরাহ কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
সব মিলিয়ে ফেব্রুয়ারি মাসে এলপিজির দাম ১৫ টাকা কমানো ভোক্তাদের জন্য স্বস্তির খবর হিসেবে এসেছে। এখন নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী সারা দেশে এলপিজি বিক্রি শুরু হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক