বিশ্ববাজারে সোনা ও রুপার দামে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদহার বজায় রাখতে পারে—এমন আশঙ্কার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুর ওপর বিক্রির চাপ বেড়েছে। ফলে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কমেছে সোনার দাম।
সোমবার (১৩ জুলাই) স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৭২ দশমিক ৪৯ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে আগস্টে সরবরাহের মার্কিন গোল্ড ফিউচার ০ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৮১ দশমিক ৩০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর প্রকাশের পর বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ইঙ্গিত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এর প্রভাবে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে, যা বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য, মূল্যস্ফীতির চাপ অব্যাহত থাকলে ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার কমানোর পরিবর্তে আরও দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে। সাধারণত সুদের হার বাড়লে বা দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে সোনার মতো সুদবিহীন সম্পদে বিনিয়োগের আগ্রহ কমে যায়। একই সঙ্গে শক্তিশালী মার্কিন ডলার ও ট্রেজারি বন্ডের উচ্চ ফলনও সোনার দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
স্যাক্সো ব্যাংকের প্রধান পণ্য বিশ্লেষক ওলে হ্যানসেন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সংকট বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়িয়েছে। এর ফলে ফেডের সুদহার নীতি আরও কঠোর হতে পারে। তার মতে, গ্রীষ্মকালীন ছুটির কারণে বাজারে লেনদেন কম থাকায় মূল্য ওঠানামাও তুলনামূলক বেশি হচ্ছে।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরে ফেডের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা বেড়ে ৭১ শতাংশে পৌঁছেছে। এক সপ্তাহ আগেও এই সম্ভাবনা ছিল ৬৩ শতাংশ। ফলে বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন অর্থনৈতিক তথ্যের দিকে নজর রাখছেন। চলতি সপ্তাহে দেশটির জুন মাসের ভোক্তা মূল্যসূচক (CPI), খুচরা বিক্রির পরিসংখ্যান এবং সাপ্তাহিক বেকারভাতা আবেদনের তথ্য প্রকাশিত হবে। পাশাপাশি ফেডের নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের বক্তব্যও বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সোনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৮ দশমিক ৮৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্ল্যাটিনামের দাম ০ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬২২ দশমিক ৭২ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৬৭ দশমিক ৪৬ ডলারে নেমে এসেছে।
এদিকে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) নির্ধারিত দামে বর্তমানে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, দেশের বাজারে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট রুপার দাম ৪ হাজার ৬০৭ টাকা। ২১ ক্যারেট রুপার দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৮৫৮ টাকা।
কসমিক ডেস্ক