কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) পাঁচ অনুষদে নতুন ডিন নিয়োগকে ঘিরে আবারও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী বিভাগভিত্তিক রোটেশন এবং জ্যেষ্ঠতার নীতি অনুসরণ করা হয়নি। এ বিষয়ে গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ নূরুল করিম চৌধুরীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বিজ্ঞান, কলা ও মানবিক, সামাজিক বিজ্ঞান, প্রকৌশল এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে নতুন ডিন নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত, ডিন নিয়োগসংক্রান্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং আইন উপদেষ্টার মতামতের ভিত্তিতে উপাচার্য এসব নিয়োগ দিয়েছেন।
তবে অভিযোগকারীদের দাবি, বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে বিভাগভিত্তিক আবর্তন (রোটেশন) অনুসরণ করা হয়নি। তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৬ অনুযায়ী নির্দিষ্ট ক্রমে বিভাগগুলো থেকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ডিন নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হয়নি। বিশেষ করে গণিত বিভাগ থেকে এবার ডিন নিয়োগ হওয়ার কথা থাকলেও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে নিয়োগ দেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ নূরুল করিম বলেন, অতীতে ডিন নিয়োগে যে নিয়মের ব্যত্যয় হয়েছিল, সেটির সমন্বয় করতেই বর্তমান সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার দাবি, আইন উপদেষ্টা এবং ডিন নিয়োগসংক্রান্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এই নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সাজ্জাদ হোসাইনও জানিয়েছেন, তিনি কেবল আইনের সংশ্লিষ্ট ধারার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতের নিয়মের ব্যত্যয়ের বিষয় বিবেচনায় নিয়েই প্রশাসন সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে অভিযোগকারী শিক্ষকদের দাবি, যদি সত্যিই পূর্বের অনিয়মের সমন্বয় করা হয়, তাহলে প্রথম যে ক্ষেত্রে ব্যত্যয় ঘটেছিল, সেখান থেকেই তা শুরু হওয়া উচিত ছিল।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে উপাচার্যের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তিনি এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করেননি। ফলে ডিন নিয়োগকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে আলোচনা ও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক