বন্যায় চট্টগ্রাম বন্দরে সংকট, শিল্প ও রপ্তানি বাঁচাতে ৯ দফা প্রস্তাব The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বন্যায় চট্টগ্রাম বন্দরে সংকট, শিল্প ও রপ্তানি বাঁচাতে ৯ দফা প্রস্তাব

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 12, 2026 ইং
বন্যায় চট্টগ্রাম বন্দরে সংকট, শিল্প ও রপ্তানি বাঁচাতে ৯ দফা প্রস্তাব ছবির ক্যাপশন:

বন্যা ও টানা ভারি বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় দেশের শিল্প উৎপাদন, আমদানি-রপ্তানি এবং সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে চারটি শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের কাছে জরুরি নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা চেয়ে তারা ৯ দফা সুপারিশ দিয়েছে।

রোববার (১২ জুলাই) নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে পাঠানো এক যৌথ চিঠিতে এ দাবি জানায় বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ), বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই)।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে পণ্য খালাস, সংরক্ষণ এবং পরিবহন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ফলে আমদানি করা তুলা, সুতা, কাপড়, রাসায়নিক, প্যাকেজিং সামগ্রীসহ বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল আর্দ্রতায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

এছাড়া তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ ও কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন রপ্তানি চালান বিলম্বিত হওয়ায় রপ্তানি আদেশ বাতিল, মূল্যছাড়, বিলম্বজনিত জরিমানা এবং জরুরি ভিত্তিতে ব্যয়বহুল বিমানপথে পণ্য পরিবহনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

সংগঠনগুলোর দাবি, গত ৫ জুলাই থেকে টানা ভারি বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন কনটেইনার ইয়ার্ড এবং বেসরকারি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে (আইসিডি) পানি প্রবেশ করে আমদানি ও রপ্তানি পণ্যের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ অবস্থায় ১০ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বন্যাজনিত পণ্যক্ষতির দায় অস্বীকার করে যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে, তা ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

চিঠিতে বলা হয়, যদি অবকাঠামোগত দুর্বলতা, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা বা ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটির কারণে ক্ষতি হয়ে থাকে, তাহলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণ করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো আরও জানায়, দীর্ঘ সময় কনটেইনার আটকে থাকায় ডেমারেজ, ডিটেনশন, পোর্ট রেন্ট, স্টোরেজসহ বিভিন্ন অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে কাঁচামাল সরবরাহে বিঘ্ন, রপ্তানি বিলম্ব, নগদ অর্থপ্রবাহে সংকট, শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ এবং ব্যাংকঋণের কিস্তি পরিশোধে চাপ বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাদের ৯ দফা সুপারিশের মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগ দ্রুত স্বাভাবিক করা, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে বিশেষ কমিটি গঠন, ডেমারেজ ও স্টোরেজ চার্জ আংশিক বা সম্পূর্ণ মওকুফ, জরুরি পণ্যের দ্রুত কাস্টমস ছাড়পত্র, ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পের জন্য স্বল্পসুদে পুনঃঅর্থায়ন ও কার্যকরী মূলধন ঋণ, ঋণ পরিশোধের সময় বৃদ্ধি, এলসি ও আমদানি-রপ্তানির সময়সীমা বাড়ানো, কর ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধে ছাড় এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সহায়তা তহবিল গঠন।

এছাড়া নৌপরিবহন, অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদে বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে একটি জাতীয় ট্রেড কনটিনিউটি ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো।

যৌথ চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এবং চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ইরানে হামলা হলে আফগানিস্তান রুখে দাঁড়াবে: প্রতিরক্ষামন্ত্রী

ইরানে হামলা হলে আফগানিস্তান রুখে দাঁড়াবে: প্রতিরক্ষামন্ত্রী